অস্ত্রবিরতির পরেও ইসরায়েল সীমান্তে নিহত ২ ফিলিস্তিনি, আহত ৩০০দুই দিন ধরে চলা ইসরায়েল ও হামাসের পাল্টাপাল্টি হামলার পর মিসরের উদ্যোগে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে শুক্রবার। রকেট ও বিমান হামলা থামলেও ইসরায়েলি সীমান্তে আবার শুরু হয়েছে ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ কর্মসূচি। শুক্রবারে গাজাবাসীর প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একজন চিকিৎসকসহ দুইজনকে হত্যা করেছে। এ সময় আহত হয়েছে অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ইসরায়েল সীমান্তে গাজাবাসীর শুক্রবারের প্রতিবাদ তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক কর্মসূচির অংশ। গত মার্চ মাসের ৩০ তারিখ থেকে প্রতি সপ্তাহে ফিলিস্তিনিরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ১৫৯ জন ফিলিস্তিনেকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি স্নাইপারের গুলিতে নিহত হয়েছে একজন ইসরায়েলি সেনা।

শুক্রবার কার্যকর হওয়া অস্ত্রবিরতির আগে হামাস রকেটের পর রকেট হামলা করেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এবার তারা দূরপাল্লার এমন রকেট ব্যবহার করেছে যা ইসরায়েলের অনেক ভেতরের এলাকাতেও আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। হামাসে রকেট হামলায় আহত হয়েছে সাত ইসরায়েলি।

অন্যদিকে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গাজার ১৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি হামলায় একজন গর্ভবতী ফিলিস্তিনি নারী ও তার ১৮ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে নিহত হয়েছে একজন হামাস সদস্য।

অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের স্টেরট শহরের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরুর পরামর্শ দিয়েছে। দুই দিন ধরে ওই এলাকাটি মুহুর্মুহু রকেট হামলার শিকার হয়েছে ফিলিস্তিনের দিক থেকে।

অস্ত্রবিরতি কার্যকর হতে হতেই আবার ইসরায়েল সীমান্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালু হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিনিধি সেখানকার আকাশকে ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে দেখেছেন। একদিকে ফিলিস্তিনিরা টায়ারে আগুন ধরিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলিরা টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এদের মধ্যে একজন চিকিৎসক। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি।

সেনা সদস্য ও সীমান্ত বেষ্টনীর ওপর ফিলিস্তিনিদের পাথর ছোঁড়া, বিস্ফোরক ব্যবহার এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘দাঙ্গা প্রতিরোধে বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গুলি চালানো হয়েছে।’ হামাসের একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ট্যাংকের গোলা নিক্ষেপের তথ্যও দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

রয়টার্স লিখেছে, মিসর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে অস্ত্রবিরতির চুক্তিতে ভূমিকা রাখলেও মিসর ও ইসরায়েলের যুগপৎ অর্থনৈতিক অবরোধের কারণেই কার্যত গাজার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। গাজায় এখন প্রায় ২০ লাখ মানুষ মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

মিসরের একজন সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তিটিকে তারা স্থায়ী সমঝোতার দিকে নিয়ে যেতে চান, যাতে গাজার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধের সুরহা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য