12 10 18

সোমবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২রা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Home - দিনাজপুর - বড় সঙ্কটে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, ভেঙ্গে পড়েছে চেইন অব কমান্ড

বড় সঙ্কটে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, ভেঙ্গে পড়েছে চেইন অব কমান্ড

রজব আলীঃ বড় সঙ্কটে পড়েছে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও দেশের একমাত্র কয়লা ভিক্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগওয়াড তাপ বিদুৎ কেন্দ্র।

App DinajpurNews Gif

বড়পুকুািরয়া কয়লা খনিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে, ভেঙ্গে পড়েছে প্রশাসনিক চেই অব কমান্ড, স্থবীর হয়ে পড়েছে দাপ্তরীক সাভাবিক কাজকর্ম।

এদিকে সময়মত খনি থেকে কয়লা উত্তোলন না হলে অকেজো হয়ে পড়ে থাকবে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ গেওয়াড তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটি। ফলে বড় সঙ্কটে পড়েছে দেশের বৃহৎ দুটি প্রতিষ্ঠান।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত কয়লার মধ্যে এক লাক ৪৪ হাজার কয়লা ঘাটতি হওয়ায়, খনিটির নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা গত ১৯ জুলাই খনির এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ ও কোম্পানীর সচিব মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানীয়কে প্রত্যাহার করে ও খনির মহাব্যবস্থাপক মাইনং এটিএম নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক খালেদুর ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

এই ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। এরপর গত ২৪ জুলাই খনির ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এতে খনিটিতে কর্মরত ৫ জন মহাব্যস্থাপকের মধ্যে তিনজন মহাব্যস্থাপকের পদ শূণ্য হয়ে যায়। অপরদিকে দুজন মহাব্যস্থাপক কর্মরত থাকলেও তারা অন্য প্রকল্পে অতিরিক্ত দায়িত্ব পান করায় এখন প্রশাসনিক জট বেধেচে।

অপরদিকে খনিটির পদস্থ কমৃকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও দুদুকের কদন্ত শুরু হওয়ায়, আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে খনিটির অন্য কর্মকতৃারাও এতে করে স্থবীর হয়ে পড়েছে দাপ্তরিক সাভাবিক কাজকর্ম। খনিটির সাভাবিক কাজ কর্ম স্থবীর হয়ে পড়ায় খনি কর্তপক্সের দেয়া সময, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েচে আশঙ্কা। সমযমত খনি থেকে কয়লা উত্তোলন না হলে অকেজো হয়ে থাকবে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগওয়াড তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটি।

আজ বৃহস্পতিবার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের কর্মচঞ্চলতা বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির গেটটি এখন জন শূন্য হয়ে পড়েছে। খনির ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মিরা কর্তপক্ষের অনুমতি নেয়ার অনুরোধ করেন, কিন্তু কে অনুমতি দেবে তা সঠিক করে কেউ বলতে পারেনি। কোন কর্মকর্তা কারো সাথে কোন কথা বলতেও রাজি হয়নি। এমন কি ফোনে একাধিক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও সুধু আমার দায়িত্বে নাই বলে ফোন কেটে দেয়।

খনির কয়েক জন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার সত্বে বলেন, গত ১৯ জুলাই খনিটির এমডি সহ চার কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করার পর থেকে এই আতঙ্ক ও প্রশাসনিক জটিলতা শুরু হয। গত ২৪ জুলাই খনির কর্মকর্তাদের নামে মামলা ও দুদুকের তদন্ত শুরু হওয়ায় এখন আতঙ্কের জায়গাটি হয়েচে বড়পুকুরিয়া কয়লা কনি। গত ৫ ও ৬ আগষ্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক শফিকুল আলম খনি পরিদর্শন করে গত ১৭ বছরের কাগজপত্র জব্দ করায় এই আতঙ্ক আরো প্রকট হয়ে পড়ে।

এদিকে খনিতে কয়লা না থাকায গত ২২ জুলাই থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েচে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগওয়াড তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে, খনি কর্তৃপক্ষ সেই সময সাংবাদিকদের জানিয়ে ছিল আগামী সেপ্টেম্বর মাসে খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে। কিন্তু বর্তমানে খনিতে যে ভাবে কাজের স্থবীরতা দেখা দিয়েছে, তাতে সেই লক্ষ পুরন করতে পারবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

ওই কর্মকর্তারা বলেন খনিটিকে বাচিয়ে রাখতে হলে খনির প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করতে হবে, কারন এই খনিটির উপর নির্ভশীল বড়পুকুরিয়া ৫২৫ গেওয়াড তাপ বিদুৎ কেন্দ, এই খনিটি অচল হয়ে পড়লে, তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটিও অচল হয়ে পড়বে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য