সৌদিকে ঠান্ডা করতে মিত্র রাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় কানাডাসৌদি আরবে আটক নাগরিক সমাজের নেতা ও নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানোর পর দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত অবনতির দিকে গড়াচ্ছে। এ অবস্থায় সৌদিকে ঠান্ডা করতে দেশটির মিত্র রাষ্ট্র সমূহের সহযোগিতা চায় কানাডা। তবে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড অবশ্য বলেছেন, তার দেশ সব সময় মানবাধিকার রক্ষায় নিজেদের অবস্থান অটুট রাখবে।

সৌদি আরবে মানবাধিকার কর্মী গ্রেফতারের পর কানাডা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। এ অবস্থায় প্রথমে রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার, পরে সৌদি এয়ারলাইন্স কানাডায় স্থগিত, দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বন্ধের ঘোষণা দেয় সৌদি। এছাড়াও কানাডায় সৌদি আরবের ছাত্রবৃত্তি নিয়ে পড়ালেখা বাতিল এবং সেদেশে বর্তমানে অধ্যয়নরত ১৫ হাজার সৌদি নাগরিককে স্বদেশে ফেরার নির্দেশও দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় কানাডায় সৌদি নাগরিকদের সব ধরনের চিকিৎসা কর্মসূচি।

অনেকটা একতরফা ভাবে এসব সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিচ্ছে সৌদি সরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কানাডার সাথে সামরিক ট্যাংক বিক্রির জন্য এক হাজার তিন কোটি ডলারের যে চুক্তি সৌদি করেছিলো, তা-ও হয়তো বাতিল করে দেবে দেশটি।

বলা যায় সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করায় এখন বেশ বিপাকেই পড়েছে কানাডা। বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। কানাডার মোট রপ্তানির দশমিক ২ শতাংশ আসে সৌদি থেকে। ২০১৬ সালে দেশ দুটির মধ্যে তিনশ’ কোটি ডলারেরও বেশি বাণিজ্য হয়েছিল এবং চলতি বছরে কানাডা মোট ১১২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে সৌদির কাছে। দুই দেশের সম্পর্কের এই টানাপোড়েনে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে খবরে প্রকাশ।

ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে কানাডা। কানাডা এবং সৌদির মধ্যকার সম্পর্ক অবনতি হবার পরও ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড দৃঢ় কণ্ঠে মানবাধিকার রক্ষার সোচ্চারের কথা বলেন।

এর মধ্যেই গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে অচলাবস্থা নিরসনে মধ্যস্থতার জন্য মিত্র রাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় কানাডা। এসব রাষ্ট্র হচ্ছে- মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ব্রিটেন।

খবরে আরো প্রকাশ, যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের হাত ধরে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব। নারীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানসহ অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। সৌদি আগেই জানি দিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা সহ্য করবেন না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য