বীরগঞ্জে নাইট গার্ডকে কুপিয়ে খুন ঘটনায়, খুনিকে পুড়িয়ে হত্যা আহত ও আটক-৪বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ বীরগঞ্জে নাইট গার্ডকে কুপিয়ে খুন ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ-খুনিকে উত্তেজিত জনতা পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আহত ও আটক-৪ জন।

বীরগঞ্জ পৌরসভার ৯নং-ওয়ার্ডের তারা মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫) ৯ আগষ্ট সকালে ধারাল অস্ত্র নিয়ে পৌরসভার রাস্তা নির্মানের তাবুতে গিয়ে জগদল ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত কাসেম আলীল ছেলে নাইট গার্ড সুরুজ আলী (৪৫) কে এলাপাথারী কুপিয়ে খুন করে।

খুনি রবিউল সেখান থেকে ৮নং ওয়ার্ডের পৌরসভা হাটের দোকান পাহাড়া নাইট গার্ড শহীদ মিয়া (৫০) ও তার ছেলে একরামুল হক (৩) কে এলাপাথারী কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। আহত শহীদ মিয়া ও শিশুপুত্র আহতএকরামুলকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।

খুনি রবিউল পালিয়ে বাড়ীতে গিয়ে রক্তমাখা কাপর পালটিয়ে পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা খুনের বিচারের দাবিতে ২০/২৫টি রাস্তার গাছ কেটে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক আবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। উত্তেজিত জনতা খুনি রবিউলের বসতবাড়ী ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে তাকে ধাওয়া করে ১৩ মাইল গড়েয়া বাজার থেকে ধরে এনে সাবজেলের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে মারপিট করে মৃত্যু নিশ্চিত করে রাস্তার কাজের গরম পিজ ঢেলে আগুন ধড়িয়ে পুড়িয়ে দেয়।

বীরগঞ্জে নাইট গার্ডকে কুপিয়ে খুন, খুনিকে পুড়িয়ে হত্যা আহত ও আটক-৪সংবাদ পেয়ে দিনাজপুর থেকে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রন করে। পুলিশ ২টি লাশের সুরতহাল লিপিবদ্ধ করে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। পুলিশ খূনি রবিউলের মা-রওশনারা বেগম ও বোন সুলতানাকে গ্রেফতার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শি ও গ্রামবাসী জানান, গত রমজান মাসে আলহাজ্ব হামিদুল ইসলামের মার্কেটের চা-দোকানদার বশির উদ্দিন (৪২) কে রাতে বাড়ীর সামনে অন্ধকারে কুপিয়ে খুন করে। গত ৬ আগষ্ট একই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে কালা মিয়া (৩০) কে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। কালা মিয়াকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় গ্রামবাসী ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে। সংবাদ পেয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল ঘটনাস্থলে এসে খুনি রবিউলকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করার নিদের্শ দেন এবং বিচারের আশ্বাস দিলে উত্তেজিত জনতা অবরোধ তুলে নেয়।

এর আগে খুনি রবিউল রাস্তার ধারে ঝোপে-ঝাড়ে লুকিয়ে থেকে স্কুল-কলেজ গামী ছাত্রীদের জাপটে ধরে জোর করে চুমু দেয় ও একর পর এক শ্লীলতা হানি ঘটায়। উত্তেজিত গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউলকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ ১২ ঘন্টা থানায় আটক রাখার পর ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গ্রামবাসী থানা ঘেরাও করে গ্রেফতার ও শাস্তির জোর দাবি জানায়। পুলিশ গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়ে প্রতারনার আশ্রয় নেয়। গ্রামবাসী দীর্ঘ দিন ধরে এ ধরনের ঘটনার আশংকায় গ্রেফতার করার জোর দাবি করে আসছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য