আগত সৈয়দপুরের মানুষ খালি কথাই শুইনছে। চৌধুরী এমপি হয়া এলায় ম্যালা উন্নতি দেখছে। হামরা টিবিত দেখো সংসদত চৌধুরী সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জের কথা কয়ছে। এই মতন হইলে পাল্টি যাইবে এঠেকার চিতরো। সৈয়দপুর ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হলে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন শহরের কুন্দল এলাকার আব্দুল মজিদ। স্থানীয় আরও অনেকে একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সূত্র মতে, হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা ছিলো অত্রাঞ্চলের অন্যতম প্রধান জনদাবি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত সরকারের মাঝামাঝি সময়ে এর অনুমোদন মেলে। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও তদবিরের অভাবে এতোদিন ফাইল চাপা ছিলো এ প্রকল্পের সব কার্যক্রম। বিরোধী দলীয় হুইপ আলহাজ শওকত চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণ করেই এর কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেন। ১০০ শয্যার নির্মাণ কাজ শুরু দ্রুত করতে জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য দেন তিনি। এর জবাবে কার্যক্রম শুরুর কথা জানান স্বাস্থমন্ত্রী। ফলে সক্রিয় হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় হুইপ বলেন, চিকিৎসা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। আমার নির্বাচনী এলাকা সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা যাতে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, সে লক্ষ্যে আমি নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালটিকে একটি আধুনিক মানসম্পন্ন চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বক্ষণিক নজরদারির কথা উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন তিনি। গত ৩১ মার্চ ভবন নির্মাণের জমির সীমানা নির্ধারণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিনাজপুরস্থ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম আজহারুল হক, নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. আহ্লালকান্তি চাকমা, নীলফামারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রশিদ, সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. ষষ্ঠীচরণ চক্রবর্তী, ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আলহাজ ডা. সিরাজুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তারা কনস্ট্রাকশনের পক্ষে প্রকৌশলী মনতোষ আচার্যসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। জানা গেছে, সৈয়দপুর ৫০ শয্যা হাসপাতালের মূল ভবনটি বর্তমান অবস্থায় রেখে বহুতল আরও ৬টি ভবন নির্মাণ করা হবে। সোয়া ৩ একর জমির উপর নির্মিত হবে এসব অবকাঠামো। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজের মধ্যে রয়েছে নতুন ১০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য তিনটি ৪ ও ৫তলা বিশিষ্ট ভবন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য ডরমেটরি, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য ডরমেটরি এবং ৫তলা বিশিষ্ট চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন। এছাড়াও নির্মাণ করা হবে লাশ রাখার ঘর ও গ্যারেজ। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশসহ জমির সীমানা নির্ধারণ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ সম্পন করে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ভবনগুলো হস্তান্তর করবেন। তিনি আরও বলেন, ভবন নির্মাণসহ আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল পেলে পাল্টে যাবে এ হাসপাতালের দৃশ্যপট। এর সুফল অত্রাঞ্চলের মানুষ পাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য