উলিপুরে বৃষ্টির দেখা নেইবর্ষার ভরা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। আকাশে মেঘ দেখা গেলেও বৃষ্টি নেই। মাঝে মাঝে একটু বৃষ্টি হলেও সে পানি কাজে আসছে না কৃষকের। ফলে বাধ্য হয়ে সেচ দিয়ে রোপা আমন চারা লাগাচ্ছে কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সেচ দিয়ে আমন চাষাবাদ দৃশ্য দেখা গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ২৩ হাজার ১ শত ১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পানির অভাবে জমিতে চারা রোপন করতে পারছেন না।

উপজেলার নারিকেলবাড়ি খামার এলাকার কৃষক ফুলচাদ বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় তাকে প্রতি ঘন্টা ১শত ৫০ টাকা করে দিয়ে জমিতে পানি নিয়ে চারা রোপন করতে হচ্ছে। উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের কৃষক কপিল উদ্দিন জানান, বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে করতে রোপনের সময় চলে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে শ্যালো মালিকের কাছে ৫’ শত টাকা দিয়ে ৪০ শতক জমি ভিজিয়ে নিলাম।

প্রতি বছর এসময় প্রচুর বৃষ্টি হলেও এবার তা না হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। বাজারে ধানের দামও কম। তাই কম দামে ধান বিক্রি করে শ্রমিকসহ সবার পাওনা মিটিয়ে দিলাম।

একই এলাকার কৃষক আবেদ আলী বলেন, হাতোত ট্যাকা নাই, ঝরি হইলে ভুই গারিম। উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের বর্গাচাষি শমসেল জানান, ধানের যে দাম তাতে ভুইত শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিয়া না গারমো। আবাদ করি কি লাভ হয়, ট্যাকায় উঠে না। খাটাখাটনিই খালি হয়। অনেক কৃষক জানান, গত মৌসুমে বোরো চাষাবাদ করে এখনও তারা লোকসানের মধ্যে আছেন। এ পরিস্থিতিতেও বসে নেই অনেক কৃষক। তারা শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি নিয়ে রোপা আমন চাষাবাদ শুরু করেছে।

একই কথা জানালেন, উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের কৃষক আবু বক্কর, ময়েজ উদ্দিন, হাতিয়া ইউনিয়নের ছালাম মিয়া, আবুল কাশেম, বাদশা মিয়া। এদিকে উপজেলার সর্বত্রই চলছে আমন চারা রোপনের ব্যস্ততা। অনেকে শ্রমিক সংকটের কারনে শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি নিয়েও চারা রোপন করতে পারছেন না।

উপজেলা কৃষি অফিসার অশোক কুমার রায় জানান, এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের সেচ দিয়ে চারা রোপনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যেসব কৃষক এখনও চারা রোপন করতে পারেননি, সেসব কৃষককে বিচলিত না হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য