সংবিধানের ৩৫-এ ধারা রক্ষার দাবিতে কাশ্মিরে সর্বাত্মক বনধ পালিতভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৫-এ ধারায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ এবং ওই ধারা রক্ষার দাবিতে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে।

আজ (রোববার) বনধকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অমরনাথ তীর্থযাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। ৩৫-এ ধারায় রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দাদের বিশেষ অধিকার ও সুবিধা দেয়া হয়েছে।

আজ (রোববার) বনধকে কেন্দ্র করে কাশ্মির উপত্যকাজুড়ে সমস্ত দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং সড়কে কোনো যান চলাচল করেছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করেছে। গোটা কাশ্মির উপত্যকা জুড়ে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

কাশ্মিরি নেতা সাইয়্যেদ আলিশাহ গিলানি, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক ও মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিকের সমন্বিত যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ৫ ও ৬ আগস্ট বনধের ডাক দেয়া হয়েছে।

বার এসোসিয়েশন, পরিবহন সংস্থাসহ ব্যবসায়ীদের সমস্ত সংগঠন ওই বনধকে সমর্থন জানিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সেখানে ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি’র মতো মূল ধারার দলসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থার পক্ষ থেকে ৩৫-এ ধারার সমর্থনে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০১৪ সালে এক বেসরকারি সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে জম্মু-কাশ্মির থেকে ৩৫-এ ধারা বাতিল করার আবেদন জানায়। জম্মু-কাশ্মির সরকার আদালতে হলফনামা দিয়ে ওই আবেদন খারিজ করার দাবি করলেও কেন্দ্রীয় সরকার ওই ধারার পক্ষে কোনো সাফাই দেয়নি। এরপর থেকে ওই ধারায় হস্তক্ষেপ করাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

৩৫-এ ধারা অনুযায়ী, রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া কেউ সেখানকার সম্পত্তি বেচাকেনা করতে পারবে না। স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সরকারি চাকরি এবং স্কলারশিপ সংরক্ষিত থাক। কোনো কাশ্মিরি নারী অন্য রাজ্যের কাউকে বিয়ে করলে তিনি রাজ্যে বিষয়-সম্পত্তির মালিকানার অধিকার হারাবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য