সিরিয়া পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় রাশিয়াযুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন ও শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছে বলে মার্কিন এক সরকারি মেমোতে দাবি করা হয়েছে।

কড়া গোপনীয় এক যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে মস্কো মার্কিন শীর্ষ জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে শত্রুশিবিরে থাকা দেশটিকে নিয়েই সিরিয়ার অবকাঠামো পুননির্মাণে একযোগে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানায়।

রুশ সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ভেলেরি গেরাসিমভ ১৯ জুলাই মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেরিন জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ডকে লেখা এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেন বলে মার্কিন সরকারের ওই মেমো দেখে জানিয়েছে রয়টার্স।

মস্কোর ওই পরিকল্পনায় শীতল প্রতিক্রিয়া দেখায় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় সাত বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে কোনো সাধারণ নির্বাচন হলে সে ধরনের পদক্ষেপেই কেবল সহায়তা দেবে বলেও মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়ার ওই প্রস্তাবের সূত্রেই সিরিয়ার পুনর্গঠনে মস্কোর পরিকল্পনার বিশদ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত আসাদ রাশিয়া ও ইরানের সাহায্য নিয়েই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেন; হারতে থাকা তার বাহিনীও মিত্রদের সহায়তায় একের পর এক অঞ্চল পুনর্দখল করে এখন সিরিয়ায় নিজেদের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দাতা দেশ ও সংস্থার সাহায্যে রাশিয়া সিরিয়ার সরকারিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনর্গঠনে সক্ষম হলে তা আসাদের প্রভাব আরও নিরঙ্কুশ করবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

“জ্বালানি, সরঞ্জাম, অন্যান্য উপাদানের ঘাটতিতে রয়েছে সিরীয় শাসনব্যবস্থা; শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনা ও দেশ পুনর্গঠনে যে তাদের অর্থেরও দরকার তা ওই প্রস্তাবে বোঝা গেছে,” মেমোতে এমনটাই লেখা আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

কেবলমাত্র আসাদ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর পুনর্গঠন ও উন্নয়নেই মস্কো এ প্রস্তাব দিয়েছে, বলা হয়েছে এতে।

আসাদের ক্ষমতাচ্যুতিকে প্রাধান্য দিয়েই ২০১১ সালে সিরীয় বিষয়ক নীতি বদলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে নানা ধরনের সহায়তাও দিয়ে আসছিল তারা।

২০১৫ সালে রাশিয়া সিরিয়ার যুদ্ধে আসাদের পক্ষে নামলে চিত্রপট বদলে যায়। মস্কোর পাশাপাশি তেহরানের সহায়তা নিয়ে সরকারি বাহিনী একের পর এক ভূমিও পুনর্দখল করতে থাকে।

সিরিয়ার ধ্বংসযজ্ঞের জন্য আসাদকে দায়ী করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণ ও জাতিসংঘের তত্বাবধানে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই তারা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।

মার্কিন সরকারি মেমোতে বলা হলেও রুশ জেনারেল গেরাসিমভের সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে কিছু বললে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ডানফোর্ডের কার্যালয়। তাৎক্ষণিকভাবে ক্রেমলিন কিংবা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

“আগেই মতোই, দুই জেনারেল তাদের আলাপচারিতা ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখার ব্যাপারেই সম্মত হয়েছেন,” বলেছেন ডানফোর্ডের কার্যালয়ের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন পলা ডান।

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে শরণার্থী হওয়া বেশিরভাগই সুন্নি সম্প্রদায়ের বলে ভাষ্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার। আসাদবিরোধী বেশিরভাগ সশস্ত্র গোষ্ঠিই সুন্নি হওয়ায় আলাওয়াইত-শাসিত সরকার তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে রাজি হবে কিনা, তাও নিশ্চিত নয়।

সাত বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে প্রায় ৫ লাখ লোক নিহত হয়েছে বলে ধারণা করছে রয়টার্স। বহুপক্ষীয় এ লড়াইয়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ উদ্বাস্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি নারী-পুরুষ ও শিশুর আশ্রয় হয়েছে সীমান্ত ছাড়িয়ে অন্য দেশে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য