ফুলবাড়ীতে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে পিতা-মাতাস্টাফ রিপোটারঃ মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে প্রশাসনসহ কর্তা ব্যাক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘরছে হতভাগ্য পিতা-মাতা হেকমত আলী ও তার স্ত্রী রেজিনা বেগম। হেকমত আলী দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পৌর এলাকার পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের বাসীন্দা।

হেকমত আলী বলেন মেয়েটাকে যৌতুকের কারনে তার স্বামীসহ স্বামীর বাড়ীর লোকজন পিটিয়ে মেরে ফেলে দিব্যি ঘুরে ােড়াচ্ছে অথচ কোন বিচার পাচ্ছিনা। মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে প্রশাসনের একাধিক কর্তাব্যাক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। অবশেসে কোটে মামলা করেছি, তার পরেও এখন পর্যন্ত কোন ফল পাইনি।

হেকমত আলীর স্ত্রী রেজিয়া বেগম বলেন তাদের মেয়ে হাফিজা খাতুনকে গত ২০১৩ সালে, দিনাজপুর সদর উপজেলার পাছঁকুড় জালালপুর গ্রামের তমিজ উদ্দিরে ছেলে দেলওয়ার হোসেনের সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিবাহ দেয়। বিবাহের পর থেকে তাদের জামাতা দেলওয়ার হোসেন ও তার পিতা তমিজ উদ্দিন ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে।

তাদের যৌতুকের টাকা গরিব পিতা হেকমত আলী পরিশোধ করতে না পারায়, তারা (স্বামীসহ বাড়ীর লোকজন) তার মেয়ে হাফিজাকে মার ডাং করে আসছিল। এই নিয়ে কয়েক দফায় ঘরোয়া বিচার সালিশও হয়েছে। এর পরে তাদের মেয়ে হাফিজা স্বামীর ঘর করে আসতেছিল। এরপর হাফিজার স্বামী মাদকা শক্ত হয়ে পড়ে মাদকের টাকার জন্য প্রায় সময় হাফিজাকে মার ডাং করতো।

এর মধ্যে চলতি সনের গত ১৮ জুন তার স্বামী দেলওয়ারসহ তার বাড়ীর লোকজন হাফিজাকে বেদম মারপিট করে, তাদের মারপিটে হাফিজার মৃত্যু হলে, তারা হাফিজার গলায় ফাঁশ দিয়ে হাফিজা আত্মহত্য করেছে বলে প্রচার চালায়।

ওই দিনের দিনাজপুর সদর কোতোয়ারী থানার পুলিশ এসে হাফিজার মৃতদেহ উদ্ধর করে সুরত হাল রিপোট তৈরী করতে গিয়ে দেখতে পায়, হাফিজার সারা শরিরে যখমের চিহ্নি। এরপর থেকে তারা এই মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুছেন।

হেকমত আলী বলেন মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে গত ২৬ জুলাই দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে আটক করেনি পুলিশ।

এই বিষয়ে দিনাজপুর সদর কোতোয়ালী থানার ওসিদর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার দিনে এই থানায় একটি অসাভাবিক মৃত্যুর মামলা করা হয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোট আসলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে, এছাদা ভিকটিমের পিতা যে মামলা করেছে, সেই মামলাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য