সবাই আমিরকে চান কেনছবি করতে হলে কেন আমিরকেই খোঁজেন পরিচালকেরা? আমির খানই বা কেন ফিরিয়ে দেন বহু চিত্রনাট্য? কেন তাঁর ছবিগুলো হয় সুপারহিট? সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পঞ্চম চিত্রনাট্যকার সম্মেলন। সেখানে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। এ ছাড়া চিত্রনাট্যকারদের কাছে ছবির লভ্যাংশ নেওয়ার পদ্ধতিও ব্যাখ্যা করেন তিনি।

আমির খান বলেন, ‘আমি মনে করি, ভালো একটি চিত্রনাট্য একটি ছবির ভিত্তি। আমি আগে নিশ্চিত হয়ে নিই, চিত্রনাট্যটি যদি ভালো লাগে, সেটা দিয়ে ছবি বানানো হলে বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতি হবে না। আমি প্রযোজকের একার কাঁধে দায় চাপাই না। শুনেছি, অনেক অভিনেতা আগেই সম্মানী নিয়ে নেন। অগ্রিম সম্মানী নিলে প্রযোজকের ওপর চাপ পড়ে। পরে তাঁরা আবার লভ্যাংশও দাবি করে বসেন!’

আমির খান তাঁর সম্মানী গ্রহণের মডেলটি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমি অগ্রিম সম্মানী নিই না। ধরা যাক, একটি ছবি বানাতে লাগবে ১০০ কোটি রুপি। এর ভেতরে থাকবে শিল্পী ও কুশলীদের সম্মানী, প্রডাকশন খরচ, পোস্ট-প্রোডাকশনের খরচ—সব। এর ভেতরে আমার কোনো সম্মানী থাকে না। যখন ছবিটি মুক্তি পায়, তখনো আমি এক রুপিও পাই না। ছবির প্রচার আর বিজ্ঞাপনে অর্থ খরচ করতে হয়, ধরা যাক সেটা আরও ২৫ কোটি রুপি। এই খরচের পর ছবিটি যখন রোজগার শুরু করে আর এসব অর্থ উঠে আসে, প্রযোজক তখন বিনিয়োগ ফিরে পান। সবাই তাঁদের সম্মানী পেয়ে যান। এরপর লাভ উঠতে শুরু করলে আমি সেখান থেকে লভ্যাংশ নিই। এতে কিন্তু প্রযোজকের কোনো আর্থিক ক্ষতি হয় না। কোনো কারণে ছবিটি টাকা তুলতে না পারলে আমি কোনো রুপি পাই না।’

এটাই অভিনেতা আমির খানের লভ্যাংশ গ্রহণের পদ্ধতি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বড় অঙ্কের লভ্যাংশ নিয়ে থাকি। কারণ আমি বড় ঝুঁকি নিই। আমার ধারণা, এতে প্রযোজকও খুশি হন। ছবি বানানোর ক্ষেত্রে এটাই সেরা ব্যবসায় মডেল। প্রযোজক ক্ষতিগ্রস্ত না হলে, সে আবার আমার কাছে আসবে।’

এ পদ্ধতিতেই অভিনেতা আমির ছবির দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন সেই ‘লগন’ ছবি থেকে। ২০০১ সালের সেই ছবির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সেই সময় থেকে মূলধারার ব্যয়বহুল ছবির সম্মানী গ্রহণের নিয়ম বদলে যায়। এ জন্যই আমার পছন্দ করা বিষয়বস্তু নিয়ে বিনিয়োগকারীরা কোনো কথা বলেন না। কারণ তাঁরা আমাকে বিশ্বাস করেন, আমার ওপর আস্থা রাখেন।’ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য