দরিদ্র সূবর্ণা ও সোহেলের পাশে খানসামার ইউএনও'র অর্থিক সহায়তাদিনাজপুর সংবাদাতাঃ সুবর্ণা ও সোহেল দুজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা দুজনেই দারিদ্রতার সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের উভয়ের বাবা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান ও বাচ্ছাদের পড়াশোনা করান। তাদের দু’জনেরই বাড়ি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায়।

এর মধ্যে নাজমুন আরা সুবর্ণা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের হাসিমপুর পালোয়ান পাড়ার ভ্যান চালক ওবায়দুর রহমানের প্রথম মেয়ে। সুবর্ণা হাসিমপুর আওকড়া মসজিদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে জেএসসিতে জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্ট পুল বৃত্তি এবং ২০১৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি পান।

বর্তমানে সে দিনাজপুর সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৮ এর ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়ে বিভাগীয় প্রথম হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে।

অন্যদিকে সোহেল ইসলাম উপজেলার আংগারপাড়া গ্রামের আশ্রমপাড়ার ভ্যানচালক আনোয়ার হোসেনের প্রথম ছেলে। সোহেল ২০১৪ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৭৬ এবং ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে শাহ্পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে ।

সুবর্ণার বাবার হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন ইউএনও ও আঙ্গারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান।

সাম্প্রতিক সোহেলের বাবা মামলায় পরে জেলহাজতে যাওয়ায় সোহেল ও তার মা মিলে এনজিও হতে ঋণ গ্রহন করে খড় কাটা মেশিন কিনে বাড়ির পার্শ্বে ছোট দোকান দিয়ে সে খড় কাটেন। ৫ সদস্যের সংসার চালাতে স্কুলে না গিয়ে সারাদিন খড় কেটে যা আয় করেন তা দিয়েই সংসার চালান নবম শ্রেনিতে পড়ুয়া মেধাবী ছাত্র সোহেল। তার বাবা জেল হতে জামিনে বের হয়ে আসার পরেও সেই ঋণের টাকা শোধ করার জন্য বাবা ভ্যান চালান আর সোহেল সারাদিন মেশিনে খড় কাটেন। এদিকে সোহেল খড় কাটেন আর নিজে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন মনের মধ্যে বুনতে থাকেন।

এমতাবস্থায় সোহেল দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে না যাওয়ায় তার লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সোহেলের পাড়াত চাচাত ভাই উপজেলার রক্তদাতাদের সংগঠন রক্তবিন্দুর সভাপতি মোঃ সাফায়েত জামিলের মাধ্যেমে এরকম একজন মেধাবী ছাত্রের খবর পেয়ে দৌড়ে যায় প্রতিবেদক। এরপর সোহেল ও তার মা-বাবার সাথে কথা বলে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার করেনন। খবর দেখে খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন ও আর্থিক ভাবে সহায়তা করার কথা জানান।

সবশেষে পহেলা আগস্ট বুধবার ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম সুর্বনার পড়াশোনা গতিশীল রাখা ও সোহেলের পড়াশোনা আবারো চালু করার জন্য তাদের দুজনকেই পাঁচ হাজার টাকা করে প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে তাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হবে বলেও জানান।

এছাড়াও সোহেল ইসলামের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত উপজেলার এক কর্মকর্তা (নাম গোপন রাখার শর্তে) তার পড়াশোনার খরচের জন্য প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে দিবেন বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য