আজ ছিটমহল বিনিময়ের ৩ বছর পূর্তিবাংলাদেশ-ভারত ছিটমহাল বিনিময়ের ৩ বছর পুর্তি আজ মঙ্গলবার। দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহাল দাসিয়ারছড়ার মানুষ মেতে উঠেছে নানা রকম বর্ণিল আয়োজনে।

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ৬৮টি মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে দু’দেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহালের মত দাসিয়ারছড়া ছিটমহালটি বাংলাদেশের ভূ-খন্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়। ৬৮ বছরের বন্দী জীবনের অবসান ঘটে ছিটবাসীর।

বাংলাদেশী নাগরিকত্ব পায় দেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলের প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ আর ভারতীয় নাগরিকত্ব মেলে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের ১৪ হাজার মানুষের। এরপর থেকেই বাংলাদেশের ছিটমহল গুলোতে শুরু হয় নানা উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড।

১৮১ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে ছিটমহলে উন্নয়ন কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সরকার। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর দাসিয়ার ছড়ার উন্নয়নে ব্যয় করা হয় ৮১ কোটি টাকা। পাশাপাশি ছিটবাসীদের এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাও।

দেশের সর্ববৃহত ছিটমহল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ায় প্রতিষ্ঠা করা হয় ৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নির্মাণ করা হয় ২২ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ব্রীজ-কালভার্ট, মসজিদ-মন্দির।

ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধাসহ ভিজিডি, ভিজিএফ সুবিধা দেয়া হয় প্রতিটি পরিবার কে। পাল্টে যায় অবরুদ্ধ ছিটমহাল বাসীর জীবন চিত্র। তাই মুক্তির আনন্দে আত্মহারা ছিটবাসী ৩ বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী বর্ণিল কর্মসূচীর আয়োজন করে। কর্মসূচীর মধ্যে মোমবাতি প্রজ্বলন, আনন্দ মিছিল, মশাল মিছিল,গ্রামীণ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, আমরা ছিটবাসীরা দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে ৬৮ বছরের লাঞ্চনা-বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন ভুখন্ড পেয়েছি। আমরা বিলুপ্ত ছিটবাসীরা গত ৩ বছর ধরে মুক্ত পাখির মতো জীবন কাটাচ্ছি। তাই আমাদের মুক্তির দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখতে মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনব্যাপী আমরা বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবো এবং প্রতিবছরই এরকম কর্মসূচী পালন হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য