কুড়িগ্রামে অটোরিক্সায় ওড়না পেছিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনেঅটোরিক্সায় ওড়না পেছিয়ে হত-দরিদ্র পরিবারের এক গৃহবধুর ঘাড়ের হাড় ভেঙ্গে ১ মাস ১৯ দিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিথর দেহ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। গৃহবধুটির শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ির লোকজন দরিদ্র হওয়ায় চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে তার সারা শরীর অবশ হয়ে গেছে। গৃহবধুটিকে বাঁচাতে পরিবারের লোকজন সমাজের বিত্তশালীদের সাহায্য কামনা করেছেন।

আহত শাহানাজ বেগম (১৮) এর বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ভাটি গ্রামে। সে ঐ গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী। গত ১৯ জুন দুপুরে ঈদুল ফিতরের তিন দিন পর মাসুদ রানা তার বাবা মা ও স্ত্রী সহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে অটোরিক্সাযোগে পাশ্ববর্তী এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়।

যথারীতি দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে একই ইউনিয়নের যমুনা কামার পাড়া এলাকায় আকস্মিকভাবে শাহানাজ বেগমের গলার ওড়না অটোরিক্সার মাঝখানের ফাঁকা অংশ দিয়ে স্যাফে আটকে যায়। মহুর্তেই ওড়না প্যাচ খেয়ে ঘাড় মোচড় খেয়ে ভেঙ্গে যায়। ঐ দিনই তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় প্রথমে কুড়িগ্রাম ও পরে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার সকল প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঘাড়ের হাড় ভেঙ্গে গেছে বলে নিশ্চিত হয়।

এদিকে দূর্ঘটনার পর থেকে শাহানাজের দুই-হাত, দুই-পা সহ সম্পূর্ন দেহ নিস্তেজ রয়েছে। সে বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। চিকিৎসকরা তার ঘাড়ের অপারেশন করতে হবে বলে পরিবারের লোকজনকে জানিয়ে দিলে তাদের মাথায় যেন বজ্রপাত হয়। এজন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এত টাকা জোগাড় করার মত সামর্থ নেই পরিবার দুটির।

ইতোমধ্যে গৃহবধুটির বাবা শাহাজাদা মিয়া মেয়ের চিকিৎসার জন্য নিজের শেষ সম্বল এক টুকরো জমি তাও বিক্রি করে চিকিৎসা ব্যয় মিটিয়েছেন। শ্বশুর বাড়ির লোকজনও টাকা পয়সা খরচ করে প্রায় দিশেহারা। এ অবস্থায় দরিদ্র পরিবারের অসহায় শাহানাজের ঘাড়ের অপারেশন কিভাবে হবে এ দূঃচিন্তায় দুটি পরিবারই কার্যতঃ উদভ্রান্তের মত ছোটাছুটি করছে। দিন যতই যাচ্ছে যেন অসহায় শাহানাজকে মৃত্যু আলিঙ্গন করছে।

এক সন্তানের জননী শাহানাজের বাবার বাড়ির লোকজন ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাদের এই দূঃসময়ে শাহানাজকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তশালী ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য