মন্ত্রীর কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তায় চালকরা বেপরোয়া হচ্ছে ইলিয়াস কাঞ্চননিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। নিরাপদ সড়ক ও দুর্ঘটনারোধে সব সময় সরব তিনি। আগামী শুক্রবার নিসচা’র পক্ষ থেকে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন এই অভিনেতা। এই প্রসঙ্গসহ আরও নানা বিষয়ে দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

নিরাপদ সড়ক চাই এর বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাই-

আমরা নিরাপদ সড়ক চাই নিয়ে অনেক মানববন্ধন ও র‌্যালি করেছি। প্রতি বছর ২২ অক্টোবর সারাদেশেই র‌্যালি হয়। এগুলো হলো সাধারণ একটা অ্যাওয়ারনেস। কিন্তু আমরা দেখলাম সাধারণ অ্যাওয়ারনেস করলে শুধু সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না। আমাদের মূলত কাজ হলো সড়ক দুর্ঘটনা কীভাবে কমানো যেতে পারে এবং কি করলে কমানো যাবে। ইদানীংকালে আমরা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি যে কাজগুলোতে সেটি হলো ড্রাইভারদেরকে মোটিভেশনাল ট্রেনিং দেওয়া। কারণ তারা আমাদের র‌্যালি বা মানববন্ধনেও আসে না। তাই চিন্তা করলাম ড্রাইভাররা যদি ঠিক না হয় তাহলে কোনো লাভ হচ্ছে না। তখন আমরা ২০১০ সাল থেকে ওদের (ড্রাইভার)কাছে গিয়ে টার্মিনালে বা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে গিয়ে একদিন বা দুই দিনের মোটিভেশনাল ট্রেনিং শুরু করলাম। এরপর স্কুলেও আমরা প্রোগ্রাম করছি। স্কুলের বাচ্চাদের সচেতন করার জন্যও বিভিন্ন অনুষ্ঠান করি। পাশাপাশি শিক্ষিত ড্রাইভার তৈরি করার জন্য আমরা ‘নিসচা ড্রাইভিং ইনস্টিটিউশন’ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। যেখানে গরীব অন্তত এসএসসি পাশ করা মানুষদের বিনা পয়সায় প্রশিক্ষণ এবং লাইসেন্সের টাকা আমরা দিচ্ছি। এভাবে এ পর্যন্ত ৫০০ ড্রাইভার তৈরি করেছি।

এতে কী সুফল পাচ্ছেন?

গত পরশুদিন যে দুর্ঘটনা ঘটেছে বা এর আগেও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। এই ঘটনাগুলো ইদানিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই জিনিসগুলো আমার কাছে যা মনে হয়েছে সরকারের মধ্যে থাকা যে মন্ত্রীগুলো, তারা দায়িত্বহীনতার যে কথাবার্তা বলে এই কথাবার্তাগুলোর জন্য চালকরা নেগেটিভ মোটিভেশন হচ্ছে। এই কারণেই কিন্তু এই ধরনের দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে।

আপনার দৃষ্টিতে এটা কি দুর্ঘটনা?

না না, এটা দুর্ঘটনা নয় এটা হত্যাকাণ্ড। ইদানিং এই ধরনের ঘটনাগুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে। মন্ত্রীর এই ধরনের কথাবার্তার জন্য নিন্দাজ্ঞাপন করেছি। মন্ত্রীর এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তার কারণেই চালকরা বেপরোয়া হচ্ছে। এছাড়া স্যোশাল মিডিয়াতে এই ঘটনাগুলো নিয়ে আমাকে রাস্তায় নামার জন্য প্রচুর অনুরোধ করেছেন। তাই মানববন্ধনের আয়োজন করেছি। যারা আন্দোলন করছেন তারাও যেন মানববন্ধনে এসে যুক্ত হয়। কারণ তাদের জন্যই আমি মানববন্ধনের ডাক দিয়েছি। কারণ আমাদের কাজ হলো দুর্ঘটনা কীভাবে কমিয়ে আনা যায়। শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না। দুর্ঘটনা রোধে আমরা বেশি কাজ করছি। তাই ইদানিং মানববন্ধন কম করা হয়। কিন্তু এই ঘটনা আমাকে অনেক আহত করেছে তাই আগামী শুক্রবার ৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছি।

মানববন্ধনের দিন হিসেবে শুক্রবার বেছে নেওয়ার বিশেষ কোনো কারণ আছে?

আসলে শুক্রবার স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। তাই শুক্রবারে আয়োজন করেছি যাতে সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে। কেউ যেন কোনো অজুহাত দেখাতে না পারে, স্কুল বা কলেজ ছিল। কারণ পরিবহন সেক্টরের মানুষজন কোনো কিছু করলে তারা এক জায়গায় একত্রিত হয় আমরা কিন্তু সেইভাবে একত্র হতে পারি না। যার কারণে সরকারও কিন্তু আমাদের চেয়ে তাদেরকে গুরত্ব বেশি দেয়। সেজন্যই আমি চাচ্ছি এই মানববন্ধন এমনভাবে যেন হয়, মিডিয়াতেও যেন এমনভাবে ছড়ায় সরকারেরও একটু টনক নড়ে। সরকারের মধ্যে এই মানুষগুলো আছে যাদের কারণে এই ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যেন সরকার একটা ব্যবস্থা নেয়।

এবার আসি আপনার অভিনয় প্রসঙ্গে। আসছে ঈদের জন্য নির্মিত একটি টেলিফিল্মে কাজ করেছেন। শুনলাম টেলিফিল্মটিতে আপনাকে স্বনামে দেখা যাবে-

এতে আমি নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন হয়েই উপস্থিত হয়েছি। একজন নায়ককে পরিচালক যতটা গুরত্ব দেয় একজন জুনিয়র শিল্পীকে ততটা গুরত্ব দেয় না। এমন গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে টেলিফিল্মটি। গল্পটি আমার ভালো লেগেছে বলেই কাজটি করেছি। টেলিফিল্মটির নাম ‘জুনিয়ার আর্টিস্ট লতিফ’। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন সুমন আনোয়ার।

ঈদের আর কোনো নাটক বা টেলিফিল্মে আপনাকে দেখা যাবে?

ঈদে আর কোনো নাটক বা টেলিফিল্মে কাজ করিনি। তবে এটিএন বাংলায় একটি গানের অনুষ্ঠানে দর্শকরা আমাকে দেখতে পাবেন। এখানে আমার পছন্দের গানগুলো প্লে করা হবে।

চলচ্চিত্রে আপনাকে দেখা যায় না কেন?

সিনেমায় আমাকে নিচ্ছে না এই কারণে আমাকে দেখা যাচ্ছে না। আমার সঙ্গে মিলে না। অনেক সময় গল্প পছন্দ হয় না, না হলে অর্থনৈতিক বিষয়ও অনেক সময় মিলে না। কারণ আমি আমি সাড়ে তিনশ ছবিতে নায়ক হয়েছি। যে জায়গায় পৌঁছেছি আমি। তাই কোনো পরিচালক আমার কাছে আসলে ওই সম্মান যদি না থাকে বা আমার চরিত্রের থাকতে হবে। কারণ সিনেমায় আমার একটা জায়গা আছে। তাই হয়তো আমার জায়গা ধরে রাখব না হলে ওর চেয়ে ওপরে উঠবো। নিচেতো কেউ নামতে চায় না। আমার কাছে যারা আসবে তারা যদি আমার মতো করে চরিত্র নিয়ে আসে আমি অবশ্যই কাজ করব।

সিনেমার অবস্থা দিনে দিনে খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত-

এটা মূলত সিনেমা হলগুলোর জন্য হচ্ছে। সিনেমা হলের পরিবেশ নেই। বরং যে কয়টা সিনেমা হল আছে সেগুলোও মানে ১৫০ হল জাজ মাল্টিমিডিয়ার আন্ডারে। সিনেমা রিলিজ করতে গেলে তাকে অনুরোধ করতে হয়। সে নিজেও প্রডিউসার। তার ছবি আবার থাকলে অন্যরা আবার শুন্য হয়ে যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য