আফগানিস্তানে যাত্রীবাহী বাসে বোমা বিস্ফোরণ আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয় এলাকায় চলছে বন্দুকযুদ্ধআফগানিস্তানে একটি যাত্রীবাহী বাসে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৪০ জন। আজ মঙ্গলবার আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

খবরে বলা হয়, বোমাটি ফারাহ প্রদেশের একটি রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা হয়েছিল। কাবুলগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সেটি বিস্ফোরিত হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফারাহ প্রদেশের বালা বালুক জেলায় স্থানীয় সময় রাত ৪:৩০ এর দিকে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রাদেশিক পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র মুহিবুল্লাহ মুহিব জানান, বোমাটি তালেবানরা পুঁতে রেখেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর জন্য। কিন্তু ঘটনাচক্রে একটি যাত্রীবাহী বাস এর শিকার হয়েছে।

মুহিব তালেবানের কথা বললেও, তাৎক্ষনিকভাবে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীটির জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ফারাহ প্রদেশে তালেবান খুবই তৎপর।

এদিকে পুর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদের প্রাদেশিক হাসপাতালের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিজার খবর থেকে এ কথা জানা গেছে। সেখানে এখন বন্দুকযুদ্ধ চলছে বলে জানিয়েছে ওই সংবাদমাধ্যম।

প্রাদেশিক সরকারের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সেখানকার শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক দফতরে হামলা হয়েছে। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয় অবস্থিত। এখনও কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সম্প্রতি ধারাবাহিক হামলার কবলে পড়েছে নানগারহার প্রদেশের রাজধানী জালালাবাদ। নানগারহারের প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র আতাউল্লাহ খোগিয়ানিকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ওই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে বন্দুকধারীরা হামলা চালাতে শুরু করে। প্রাদেশিক কর্মকর্তা জাবিউল্লাহ জেমারাই জানিয়েছেন, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ও হামলাকারীদের মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ চলছে। তবে সেখানে কোনও প্রাণহানি হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

হামলার একদিন আগে গতকাল সোমবার (৩০ জুলাই) নানগারহারের প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গত তিন মাসে বিভিন্ন হামলায় কমপক্ষে ১৬০ জন নিহত ও ৪৯০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়। গত শনিবার (২৮ জুলাই) হামলাকারীরা শহরে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটানোর পর ধাত্রীদের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলে পড়ে। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে বন্দুকযুদ্ধ। ওই ঘটনায় দুইজন নিহত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য