দিনাজপুরে বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগ বঞ্চিত জাতীয় ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনসংবাদ সম্মেলনঃ বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ বয়স নির্ধারণ (১ম – ১২তম ) শিক্ষক নিবন্ধিতদের না করে ১৫তম থেকে চালু করা ও সঠিক শূন্য পদ নিরুপন করে রিটের আলোকে নিয়োগ এবং ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে সোমবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

সোমবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগ বঞ্চিত জাতীয় ঐক্য পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোহাঃ নজমুল হক।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ নিবন্ধিত শিক্ষকদের প্রতি বরাবরই অবহেলা এবং অনিয়মের মাধ্যমে নাজেহাল করছে। ৬ লাখ পরীক্ষার্থী নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে ইতিমধ্যেই নিবন্ধুনধারী হিসেবে কর্মসংস্থানে অপেক্ষায় রয়েছে, অথচ তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করেই ম্যানেজিং কমিটি গভর্ণিং বর্ডির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

যে কারণে এনটিআরসিএ সঠিক মেধা তালিকা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি, অনিয়ম, সজনপ্রীতি জাল জারিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজারের অধিক ভুয়া শিক্ষক এমপিও ভুক্তি হয়ে বহাল তবিয়তে চাকুরী করছেন। অন্যদিকে লক্ষাধিক উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী নিবন্ধন সনদধারীরা বেকারত্বের বোধা বয়ে বেড়াচ্ছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস ফাঁকি প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মতো জঘন্ন ঘটনাও ঘটছে এবং পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করতে পারছে না।

তারা বলেন, এনটিআরসিএ-এর প্রতি হাই কোর্ট রিটে মেধা তালিকা প্রণয়ন করে ৫নং নির্দেশনা মতে (রিটকারীদের নামসহ) নিয়োগ প্রদান করার জন্য সরাসরি সুপারিশ করেছেন। এ সুপারিশে বলা হয়েছে শূন্য পদ সাপেক্ষে অপরাপর আবেদন প্রত্যাশিত নিবন্ধিত গণকে শূন্যপদে নিয়োগ দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। এনটিআরসিএ বৈধ প্রার্থীদের সনদের মেয়াদ ছাড়াই সনদ ইস্যু করবেন এবং যারা ইতিমধ্যে সনদ অর্জন করেছেন তাদের বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদ সাপেক্ষে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদের মেয়াদ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন দেশে শূন্য পদের সংখ্যা ৬০ হাজার। হাইকোর্টে ইতোমধ্যেই রিট আবেদন করেছেন ৪০ বছর বয়স্ক নিবন্ধিত শিক্ষক ১৭২৩৪ জন। মোট রিটের রায় হয়েছে ১৬৬টি। শিক্ষকদের ৬ দফা দাবীর মধ্যে রয়েছে (১ম থেকে ১২তম) নিবন্ধনধারীদের বয়স না করে ১৫-তম নিবন্ধন পরীক্ষা থেকে কার্যকর করতে হবে, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদের তালিকা যথাযথ নিরুপন করে (১ম থেকে ১২তম) নিবন্ধিতগণের চাকুরীর ব্যবস্থা করতে হবে।

ই-এপ্লিকেশন-এর নামে জাতীয় উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী নিবন্ধিত বেকারদের কাছ থেকে অবৈধভাবে যতখুশি তত টাকা আদায় করা যাবে না, জাল সনদধারী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শত্রুদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করে উচ্চ পদ সমূহের শূন্য করে বৈধ সনদধারীদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে, যারা ইতিমধ্যে নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে চাকুরী করছেন তারা সমপর্যায়ের কোন আবেদন পারবে না, মেধা তালিকায় বিষয়ভিত্তিক নাম থাকার পরেও ঐ বিষয়ে মেধাবী নিবন্ধিত সনদধারীদের চাকুরী নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় পরীক্ষা নেয়া যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোঃ বদরুদ্দোজা, মোঃ ময়গম আলী, মোঃ আশরাফ আলী, শংকর কুমার রায়, নাজমা আহাম্মেদ, হৈমন্তী শুক্লা রায় প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য