পলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃষ্টি এলেই ক্লাস রুমে পানিআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ বিদ্যালয়ের মরিচা পড়া টিনসেট ক্লাস রুমের চালা ফুটো। বৃষ্টি এলেই টিনের ফুটো দিয়ে ক্লাস রুমের ভিতরে ছুই-ছুই পানি পড়তে থাকে। এমন ঝুঁকির মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে অবস্থিত পলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টিতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে।

সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ পদ বিশিষ্ট শিক্ষক দুই শিফ্টে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে পাঠদান দিয়ে আসছে। গত ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে উপজেলা প্রকৌশলীর অর্থায়নে বিদ্যালয়টি টিনসেট বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়।

এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়টির কোন সংস্কার কাজ হয়নি। বিদ্যালয়ের মরিচা পড়া টিনের চালার ফুটো দিয়ে বৃষ্টি এলেই ক্লাস রুমের ভেতরে ছুই-ছুই পানি পড়তে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু টিনগুলো মরিচা পড়ে জরাজীর্ণ। দীর্ঘ ২২ বছরেও আর কোন সংস্কার না হওয়ায় টিনের চালার ফুটোর পানি দিয়ে ভিজতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

এ অবস্থায় বেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির পানিতে ভিজে পাঠদান করা হলেও দেখার কেউ নেই। বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন কয়েকবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শনসহ তাদের নিকট দীর্ঘদিনের করুণ অবস্থা তুলে ধরে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তবুও অদ্যবধি কোন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

প্রধান শিক্ষক ফুয়ারা আবেদীন জানান, আমি এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দফায়-দফায় অবগত করলেও কোন লাভ হচ্ছে না।

বর্তমান বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক লেখাপড়ার বিঘœ ছাড়াও সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাহত হবে বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল দুচিন্তায় পড়েছেন।

জরুরী ভিত্তিতে মরিচা পড়া ফুটো টিন সরিয়ে ফেলা না হলে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে ঘুরে ফিরে সংস্কারের বরাদ্দসহ অন্যান্য বরাদ্দ এলেও পলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবহেলায় পড়ে রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্যাহিশ শাফী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় গুলো মেরামত ও সংস্কারের জন্য ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিদ্যালয় গুলোর মেরামত ও সংস্কার কাজ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য