মুগাবেবিহীন ভোটের লড়াইয়ে জিম্বাবুয়েপ্রায় চার দশক ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা রবার্ট মুগাবেকে উৎখাতের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে জিম্বাবুয়ে।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটে নতুন প্রেসিডেন্ট ছাড়াও জিম্বাবুয়ে পার্লামেন্টের সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করা হবে।

১৯৮০ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এবারই প্রথম দেশটির কোনো সাধারণ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে মুগাবের নাম থাকছে না বলে জানিয়েছে বিবিসি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার দল জানু পিএফের এমনানগাওয়া ও বিরোধী প্রার্থী নেলসন চামিসার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিক চেইঞ্জের (এমডিসি) ৪০ বছর বয়সী চামিসার তুলনায় জনমত জরিপে জানু পিএফের ৭৫ বছর বয়সী এমনানগাওয়া সামান্য এগিয়ে আছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মোট নিবন্ধিত ভোটেরর প্রায় ৪৪ শতাংশেরই বয়স ৩৫ এর নিচে হওয়ায় এবারের ভোটে তরুণরাই পার্থক্য গড়ে দেবেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যে কারণে চামিসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

২৫ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া চামিসা বিজয়ী হলে তিনিই হবেন দেশটির সবচেয়ে তরুণ প্রেসিডেন্ট। নির্বাচিত হলে জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও খেলাধুলায় বিনিয়োগ বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এ এমডিসি নেতা।

প্রতিপক্ষরা তার উচ্চগতি সম্পন্ন বুলেট ট্রেন ও জিম্বাবুয়েতে অলিম্পিক আয়োজনের মতো উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলোর সমালোচনা করছেন।

‘দ্য ক্রোকোডাইল’ খ্যাত এমনানগাওয়া বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি এমন অর্থনৈতিক সংস্কার করবেন যা অসংখ্য চাকরির যোগান দেবে।

জিম্বাবুয়েতে বেকারত্বের হার প্রায় ৯০ শতাংশ হওয়ায় এ বিষয়টিও ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

সোমবারের নির্বাচনে জিম্বাবুয়েবাসী মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ১৬ বছর পর দেশটির এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পর্যবেক্ষকরা থাকছেন।

ভোটের আগে রোববার মুগাবের এক সংবাদ সম্মেলনও দেশটির রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

হুট করে ডাকা ওই সংবাদ সম্মেলনে ৯৪ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট তার উত্তরসূরি এমনানগাওয়াকে ভোট দেবেন না বলে জানান। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে চামিসারই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

“আমি তাদেরকে ভোট দিতে পারি না, যারা আমাকে নির্যাতন করেছে। আগামীকালের (সোমবার) নির্বাচন সামরিক সরকারকে সরিয়ে সংবিধানের পথে ফিরিয়ে আনবে বলেই আশা আমার,” বলেন মুগাবে।

পূর্বসূরির এ সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়ায় এমনানগাওয়া এমডিসি নেতার সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের যোগসাজশ সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করলেও পরে তাও উড়িয়ে দেন মুগাবে।

প্রেসিডেন্ট থাকার সময় উত্তরসূরি হিসেবে স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকে নির্বাচিত করার পরিকল্পনার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।

এমনানগাওয়া না গ্রেস, উত্তরাধিকারের এই দ্বন্দ্বেই জিম্বাবুয়ের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে গত বছর টানা তিন দশকের প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগে বাধ্য করে দেশটির সেনাবাহিনী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য