ইসরায়েলি সেনাকে চড় মারা কিশোরী তামিমির মুক্তিইসরায়েলি সেনাকে চড় ও লাথি মেরে জেলে যাওয়া ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি ৮ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে পশ্চিম তীরের নবি সালেহ এলাকায় নিজেদের বাড়ির গাড়িবারান্দায় তামিমির সঙ্গে দুই ইসরায়েলি সৈন্যের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়েছিল।

মা নারিমান পুরো ঘটনাটির ভিডিও করে ফেইসবুক পাতায় পোস্ট করলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলা ওই কিশোরী মুক্তি পেয়েছে বলে রোববার এক প্রতিবেদনে জানায় বিবিসি।

মুক্ত তামিমি পশ্চিম তীরের পথে রওনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের কারাগার কর্তৃপক্ষ।

ফিলিস্তিনিরা তামিমির দুঃসাহসকে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে দেখলেও ইসরায়েলিদের ভাষ্য, জনপ্রিয়তা পেতে ওই কিশোরী সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে।

তামিমি তার পরিবারের সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন গ্রাম নবি সালেহতে থাকে বলে জানিয়েছে বিবিসি। গতবছরের ১৫ ডিসেম্বর মায়ের সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার পথে ইসরায়েলি সেনারা তাদের পথরোধ করে।

ভিডিওতে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এক সেনাকে লাথি ও গালে সপাটে চড় মারার পর অন্য সেনাকে ঘুষি মারারও হুমকি দিতেও তামিমিকে দেখা গেছে।

ঘটনার কয়েকদিন পরই এক রাতে অভিযান চালিয়ে তামিমিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরায়েলি সামরিক আদালতে বিচার শেষে তামিমিকে ৮ মাসের জেল দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীকে অপমান এবং সহিংসতার উস্কানি দেওয়াসহ মোট ১২টি অভিযোগ আনলেও শেষ পর্যন্ত হামলাসহ মোট চারটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানো হয়।

তামিমির এমন কান্ড নতুন নয়। দুই বছর আগেও পাথর ছোড়ার অভিযোগে ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা এক ইসরায়েলি সেনার হাত কামড়ে ধরেছিল তামিমি। ওই ভিডিওটিও ভাইরাল হয়।

সেবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান তার প্রশংসা করেন এবং ‘সাহসের’ জন্য পুরস্কৃত করেন।

এমনকি মাত্র ১১ বছর বয়সে ঘুষি বাগিয়ে এক ইসরায়েলি সেনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার তামিমির ভিডিওটিও ভাইরাল হয়।

অনেক ইসরায়েলির অভিযোগ, তামিমিকে ব্যবহার করে তার পরিবার ইসরায়েলের সেনাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছা করে উস্কানিমূলক ভিডিও তৈরি করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য