কর্নাটকের পরিত্যক্ত কুয়ায় মিলল টিপু সুলতান আমলের হাজারো ‘যুদ্ধ রকেট’ভারতের প্রত্নতত্ত্ববিদরা দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমের রাজ্য কর্নাটকের একটি দুর্গের পরিত্যক্ত কুয়া থেকে অষ্টাদশ শতকে প্রচলিত হাজারো ‘যুদ্ধ রকেট’ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছেন।

মাইসোরের সে সময়কার শাসক টিপু সুলতান ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এ রকেটগুলো বানিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিবামোগ্গা জেলার কাছে নাগারায় বিধানোরু দুর্গের পরিত্যক্ত উন্মুক্ত কুয়ায় জ্বালানিভর্তি এ রকেটগুলো পাওয়া যায় বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে এনডিটিভি।

“মাটি থেকে বারুদের গন্ধ পাওয়ার পরপরই শুকিয়ে যাওয়া কুয়া খননের সিদ্ধান্ত হয়, যা প্রচুর রকেট এবং জড়ো হয়ে থাকা শেলের সন্ধায় দেয়। যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রত্যেকটিই পটাশিয়াম নাইট্রেট, চারকোল ও ম্যাগনেশিয়াম পাউডারে ভর্তি ছিল,” ব্যাঙ্গালুরুর ৩৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমের খননস্থল থেকে শনিবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে এমনটাই জানান রাজ্যের পুরাতত্ত্ব বিভাগের সহকারি পরিচালক আর শেজেসওয়ারা নায়কা।

১২ থেকে ১৪ ইঞ্চির বিভিন্ন আকৃতির রকেটগুলো মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ছিল। লৌহবেষ্টিত এ রকেটগুলো যে টিপু সুলতানের আমলের, তা এর নির্মাণ শৈলিতেই ‘অনেকটা স্পষ্ট’ বলেও মন্তব্য নায়কার।

কর্নাটকের ওই দুর্গে ২০০২ সালেই ১৬০টি অব্যবহৃত রকেট পেয়েছিলেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সেগুলো যে টিপু সুলতান আমলের, ৫ বছরের গবেষণা শেষে তা নিশ্চিত হওয়ার পর বিধানোরুর আশপাশে আরও রকেটের অনুসন্ধানে কাজ শুরু হয়।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের ১৫ সদস্যের একটি দল খনন যন্ত্র ও শ্রমিকদের সাথে নিয়ে বুধবার থেকে কাজ শুরুর তিনদিনের মাথায় অষ্টাদশ শতকের এ রকেটগুলোর খোঁজ পান বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

ইতিহাসবিদরা বলছেন, অষ্টাদশ শতকে শিবামোগ্গা জেলাটি টিপুর মাইসোর রাজ্যের মালনদ এলাকার অন্তর্ভূক্ত ছিল।

চতুর্থ অ্যাংলো-মাইসোর যুদ্ধে ১৭৯৯ সালে শ্রীরঙ্গপটনায় নিহত হলেও ইস্ট ইন্ডিয়া বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে টিপুর সমরকৌশলে ‘যুদ্ধ রকেট’ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছিল বলেও ভাষ্য তাদের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য