দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষকের যৌন নির্যাতন সম্পর্কিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার বক্তব্য প্রদান করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

আজ শনিবার দুপুর ২টায় দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষকের যৌন নির্যাতন সম্পর্কিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যৌন হয়রানি বিষয়ে যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে তা সঠিক নয়। তা মিথ্যা বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

হাবিপ্রবির রেজিষ্ট্রার আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, গত বছর ২০ জুলাই বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রমজান আলীর বিরুদ্ধে এম.এস. অধ্যয়নরত একজন ছাত্রী কর্তৃক মানসিক নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির রির্পোটের ভিত্তিতে তাঁকে কঠোরভাবে সতর্ক করে ঐ শিক্ষককে গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া তার চাকুরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে। সুতরাং তার পদোন্নতির প্রশ্নই আসেনা।

তারপরও কর্তৃপক্ষ এই র্স্পশকাতর বিষয়টির গুরুত্ব অনুভব করে এবং ড. মো. রমজান আলীর স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য মহামান্য হাইকোটের দিক নিদেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানী প্রতিরোধ কমিটিতে প্রেরন করা হয়।

তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে রিপোর্ট প্রদান করেছেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ড. মো. রমজান আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কমিটির সুপারিশসমূহ পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে।

ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষক দীপক কুমার সরকারের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ এলে ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর প্রফেসর ড. ফাহিমা খানম, সাবেক ডীন, সোস্যাল সায়েন্স এন্ড হিউম্যানিটিস অনুষদ, সভাপতি ও প্রফেসর ড. বলরাম রায়, সাবেক ডীন, বিজ্ঞান অনুষদ, প্রফেসর ড. এ.টি.এম. সফিকুল ইসলাম, সাবেক প্রক্টর, প্রফেসর ডা. এস.এম. হারুন-উর-রশীদ, সাবেক পরিচালক, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগকে সদস্য ও মো. সফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রক্টরকে সদস্য-সচিব করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে উক্ত শিক্ষককে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। তাঁকে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের ক্লাস কার্যক্রম, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং খাতা মূল্যায়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এরপর দীপক কুমার সরকারের কোন পদোন্নতি হয়নি। উল্লেখ্য, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বিষয়টির পুনঃতদন্তের জন্য কোন আবেদন করেননি।

এছাড়া, মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক ফরিদুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আসেনি।

এরূপ বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন না করার এবং এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সংবাদের সত্যতা যাচাইপূর্বক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য অনুরোধ করেন রেজিষ্ট্রার প্রফেসর মোঃ সফিউল আলম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য