মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে যৌতুকের জন্য আয়েশা (২১) নামে এক গৃহবধূকে স্বামীর পরিবারের লোকজন পিটিয়ে হত‍্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী ও শ্বাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে যৌতুকের জন্য আয়েশাকে তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন বেধরম মারপিট করে। এতে আয়েশা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের পিতা দুপুর ২ টার দিকে মেয়ে জামাইয়ের বাড়ি ভেটনা গ্রামে যায়।

মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন‍্য রানীশকৈল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু অবস্তার অবনতি না হওয়ায় আয়েশাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।কর্তব্যরত চিকিতসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

এ ঘটনায় মেয়ের পিতা বাদী হয়ে জামাতা আমিরুল সহ ৫ জনকে আসামী করে শুক্রবার হরিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ তাতক্ষনিকভাবে অভিযান চালিয়ে আয়েশার স্বামী আমিরুল ইসলাম (৩০) ও শ্বাশুড়ি শেফালী (৫০) কে আটক করেছে। আটককৃত আমিরুল উপজেলার ২নং আমগাও ইউনিয়নের ভেটনা গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে ও শেফালী মোজাম্মেল হকের স্ত্রী।

আয়েশার বাবা আব্দুল হাই বলেন,গত তিন বছর আগে আয়েশার পার্শবর্তী ভেটনা গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে আমিরুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় জামাইকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে দিই। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই আরো যৌতুক নেওয়ার জন‍্য চাপ প্রয়োগ শুরু করে।

মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আরো ১ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে জামাইকে দিই। আবার কিছুদিন যাওয়ার পর পূনরায় আমার মেয়েকে, জামাই আমিরুল আরো যৌতুক নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করলে আমার মেয়ে আয়েশা অপরাগতা প্রকাশ করে। এরপর থেকেই আমার মেয়ে আয়েশার উপর তার স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন নির্মমভাবে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন শুরু করে।

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুছ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় স্বামী আমিরুল ইসলাম ও তার মা শেফালী (৫০) কে আটক করা হয়েছে। গৃহবধূর লাশ স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য