প্রথমবারের মতো রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা এস-৪০০ মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে চীন। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক নিউজ জানিয়েছে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সব সরঞ্জাম বেইজিংকে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে স্পুটনিক নিউজ বলছে, এই প্রতিরক্ষা সামগ্রী দ্রুত পরীক্ষা করে দেখতে চায় বেইজিং। এই বছরের জুলাই-এর শেষ বা আগস্টের প্রথম দিকে এই পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা চলছে।

রাশিয়ার তৈরি ট্রায়াম্ফ নামে পরিচিত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি সহজে বহনযোগ্য। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ২৫০ কিলোমিটার উঁচুতে থাকা উড়োজাহাজ, ক্রজ অথবা ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস। ২০১৫ সালের এপ্রিলে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রেতা হয়েছিল চীন। তিনশো কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি অনুযায়ী গত সপ্তাহে চীন প্রথম চালানের সরবরাহ পায়। চলতি বছরের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় চালান চীনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টোকিওভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাট শুক্রবার একটি প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ নেওয়া চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) দলটি চলতি বছরের জুলাই-এর শেষ বা আগস্টের প্রথম দিকে নিজেদের মাটিতে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখার পরিকল্পনা করছে।

ডিপ্লোম্যাট’র রিপোর্টে বলা হয়, পিপলস লিবারেশন আর্মির বহরে কবে নাগাদ এস-৪০০ যুক্ত হবে তা পরিষ্কার নয়। তবে দ্রুত আমদানি ও পরীক্ষার ঘোষণায় প্রমাণ হয় শিগগিরই তা চীনের অস্ত্রাঘারে যুক্ত করার আশা করা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে রাশিয়ার এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি অন্তত দশটি দেশ কেনার কথা বিবেচনা করছে। চলতি বছরের এপ্রিলে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর প্রযুক্তি সহায়তা বিভাগের প্রধান দিমিত্রি সুগায়েভ বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে, এদের মধ্যে প্রথম দিকে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশ। বৈশ্বিক বাজারে আকাশ প্রতিরক্ষার নানা অস্ত্র থাকলেও রাশিয়ার সরঞ্জামের চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে।

এস-৪০০ প্রতিরক্ষা তুরস্কের কাছে বিক্রির খবরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। বিশেষ করে এস-৪০০ যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যৌথ ফাইটার জেটের তথ্য সংগ্রহে সক্ষম এমন খবরের পর তারা আরও সতর্কতা দেখায়। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অস্ত্র কর্মসূচি বলে ধারণা করা হয়। বার্ষিক নবায়নযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা কর্তৃত্ব আইনের ফাঁস হওয়া এক নথিতে দেখা যায়, তুরস্কের কাছে রাশিয়ার এস-৪০০ সরবরাহ করার আগ পর্যন্ত তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ সরবরাহ বন্ধ রাখতে চাওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক দ্য আটলান্টিক কাউন্সিল গত ২৫ জুলাই এক বিশ্লেষণে বলেছে, রাশিয়ার তৈরি ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর হুমকি তৈরি করেছে। ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এস-৪০০ প্রতিরক্ষার রাডার এফ-৩৫ বিমানের গোয়েন্দা ও ইলেকট্রনিক সংকেত ধারণে সক্ষম।

দ্য আটলান্টিক কাউন্সিল’র বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওই রাডার যদি তুরস্ক চালায় আর তার পাশাপাশি এফ-৩৫ তাদের হাতে থাকলে মস্কো এই যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবে। এমনকি ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমানগুলো সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় উপাত্ত পাওয়ার সুযোগ পাবে মস্কো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য