পাকিস্তানে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান, নতুন নির্বাচন দাবিপাকিস্তানের গত সপ্তাহের সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখান করে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

বুধবারের ওই নির্বাচনে পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) দ্বিতীয় ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপলস পার্টি (পিপিপি) তৃতীয় সর্বোচ্চ আসন জিতেছে।

ভোটের পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন সবগুলো আসনের ফল ঘোষণা করতে পারেনি। এর মধ্যেই পিএমএল-এন ও মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমলসহ (এমএমএম) বেশ কয়েকটি দলের নেতারা একত্রিত হয়ে কারচুপির নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

শুক্রবার ইসলামাবাদের ওই যৌথ বৈঠকে নতুন ‘স্বচ্ছ নির্বাচনের’ দাবিতে বিক্ষোভের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এমএমএম নেতা মাওলানা ফজলুর রেহমান।

“নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলন করতে পারি আমরা। অবশ্যই এর প্রতিবাদ জানানো হবে,” বলেছেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও পিএমএল-এন প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তার দল নতুন পার্লামেন্টে যোগ দেবে না বয়কট করবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আগেরদিন দলটির অন্যতম মুখপাত্র শাহবাজ হামজা শরিফ নির্বাচনের ফল মেনে পার্লামেন্টের বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।

এমএমএম নেতা মিয়া আসলামের বাসায় হওয়া বৈঠকটিতে ডজনেরও বেশি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে ডন। এতে অংশ নেওয়া দলগুলোর নির্বাচিত সাংসদরা শপথ নেবেন না বলেও জানিয়েছেন রেহমান।

“এ নির্বাচনকে আমরা জনগণের রায় বলে মনে করছি না, মনে করছি গণরায় চুরির নির্বাচন হিসেবে,” বলেন তিনি।

নির্বাচনে ইমরানের দলের বিজয়ের পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করে এ এমএমএম নেতা বলেন, পাকিস্তানের গণতন্ত্রকে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না।

বুধবারের নির্বাচনের শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইমরানের পিটিআই ১১৫টি আসনে এগিয়ে আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পিএমএল-এন এগিয়ে ৬৪টি আসনে, ৪৩টিতে জয়ের পথে বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি।

ভোটের ফল নিয়ে অসন্তোষের কথা জানালেও শুক্রবারের বৈঠকে পিপিপির কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে দলের নেতৃত্ব নিজস্ব কৌশলে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পিপিপি মুখপাত্র।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রও বুধবারের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

গণনার দীর্ঘসূত্রিতায় পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন সবগুলো আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না করলেও পিটিআই সরকার গঠনে ছোট ও আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ডন।

পিটিআই নতুন সরকারে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টকে (এমকিউএম-পি) অংশীদার বানানোর প্রস্তাব দিলেও দলটির বেশ কজন নেতা ইসলামাবাদের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রদেশেও বুধবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে সিন্ধুতে পাকিস্তান পিপলস পার্টি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বলে ডন জানিয়েছে।

পাঞ্জাবে পিএমএল-এন একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও সামান্য কিছু আসনে পিছিয়ে থাকা পিটিআইও সরকার গঠনে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য