দিনাজপুর শহরের ষ্টেশরোড সড়কটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছেদিনাজপুর সংবাদাতাঃ ভয়াবহ দূঘটনার ঝুকি নিয়ে দিনাজপুর শহরের ষ্টেশন রোডে প্রতিদিন চলাচল করছে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, অফিস আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শত শত মানুষ। মৃত্যুর ঝুকিসহ ভয়াবহ দূঘটনার সম্ভবনা থাকলেও প্রশাসন এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না।

ষষ্টিতলা মোড় থেকে শুরু করে রেল ষ্টেশন সড়কে রড, প্লেনশিট, এঙ্গেলের আঘাতে অনেকে আহত হওয়ার পরও প্রশাসনের টনক নড়েনি। বড় ধরনের কোন দূঘটনায় অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন এমনটাই ধারনা এলাকাবাসী ও পথযাত্রীর। দিনাজপুর শহরের ষষ্টিতলা মোড় থেকে শুরু করে পৌরসভা পর্যন্ত সড়কটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সড়কে রয়েছে একটি মহিলা কলেজ, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই সড়ক দিয়ে দিনাজপুর জিলা স্কুল, পৌরসভা স্কুল, আদালত, জেলা প্রশাসন কার্যালয়, দিনাজপুর সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, বিজিবি ও বিভিন্ন ক্লিনিকে যাতায়াত করেন শত শত স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, রোগী, বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী।

এই সড়কে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে গড়ে উঠেছে রড, স্টীল, লোহার এঙ্গেল, প্লেনশিটের কয়েকটি দোকান। দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই সড়কের উপর দিয়ে এসব মালামাল লোড আনলোডিং ও সড়কের এপাড় ওপাড় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই সড়কে এসব ঘটনায় বেশ কিছু পথচারী আহত হয়েছে।

এমনকি স্কুল কলেজ ও অফিস আদালতের সময় সড়ক বন্ধ করে দিয়ে এসব পন্য লোড আনলোড ও রাস্তার এপাড় ওপাড় করা হয়। প্লেনশিটে আহত দৈনিক কালেরকন্ঠ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি এমদাদুল হক মিলন গত বছর ২৭ নভেম্বর আয়রন ষ্টোরে প্লেনশিটে গুরুতর আহত হয়ে একটি পা পঙ্গু হয়ে গেছে। এমদাদুল জানান, প্লেনশিটে আহত হয়ে যে অভিশপ্ত জীবন অতিবাহিত করছি এধরনের আর যেন কারও না হয় সে কারনেই জরুরী ভিত্তিতে এসব দোকান উচ্ছেদ বা বন্ধ করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সাংবাদিক জিএম হিরু বলেন, তিনি দু’বার এ পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন যে কোন মুহুর্তে ভয়াবহ দূঘটনার সমূহ সম্ভবনা রয়েছে। ওই সড়কে দিনাজপুর -১ আসনের সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপালের একটি কার্যালয় রয়েছে। তিনি বলেন, রড, প্লেনশিট, এঙ্গেল দিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

রেলওয়ের দোকান নিয়ে কতিপয় ব্যবসায়ী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে পথচারীদের জিম্মি করে ফেলেছে। রেলওয়ে লালমনিরহাট ডিভিশনের ডিটিএস মোঃ শওকত জামিল বলেন, রেলওয়ে থেকে ১০,১২ ফিটের দোকান লিজে দেয়া হয়। জনগনের দূর্ভোগ হবে এধরনের কোন দোকান দিলে তা লিজ শর্তের পরিপন্থি। লিজকৃত জমির ১ ইঞ্চি বাইরে কেউ যেতে পারবে না।

দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির চিত্র ভয়াবহ। যে কোন সময়ে কোন মায়ের কোল খালি হতে পারে। প্রশাসন দেখছে কিন্তু নিরব। ভয়াবহ দূঘটনার আশংকায় পথচারীরা থমকে দাঁড়ায়। দিনাজপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে ভয়াবহ দূঘটনার আশংকা থাকলেও প্রশাসন এব্যাপরে এপর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রভাব ও প্রতাবশালী গুটিকয়েক ব্যবসায়ী অর্থের বিনিময়ে সব কিছুই ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছেন। দূঘটনার আশংকা থাকলেও ওই ব্যবসায়ীরা এব্যাপারে কোন তোয়াক্কা করে না। এ ব্যাপারে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য