সাদল্যাপুরে বর্ষালী ধান কাটা-মাড়াই শুরুশস্য শ্যামলা, সবুজ বাংলার কৃষি প্রধান দেশের গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার দিগন্ত জুড়ে খোলা মাঠে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। ধুধু চোখে নজর কাড়ছে বর্ষালী ধানের ক্ষেত। কৃষকের কাঙ্খিত স্বপ্নের এ ক্ষেতে আশাতীত ফলন পেতে ইতোমধ্যে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু করেছেন।

গেল ইরি-বোরো ধান ঘর তোলার রেস কাটতে না কাটতেই গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় বর্ষালী ধান আবাদে ঝুঁকে পড়েছিল কৃষকরা। সম্প্রতি সেই ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষক মহল।

বিশেষ করে উপজেলার উচু এলাকায় ইরি ধান কাটার সাথে সাথে বর্ষালী জাতের ধানের বীজ বপন করা হয়। প্রায় ১৫ দিনের মধ্যেই বোপনকৃত বীজ জমিতে রোপন করার উপযোগি হয়ে যায়। ইরি-বোরো মৌসুমে ধান পাকার সময় এবং কাটার সময় কাল বৈশাখি ঝড়/বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ায় কুষকরা নাকাল হয়ে পরলেও আবাদী জমি পতিত রাখতে নারাজ তারা। তাই পুরো বর্ষা নামার আগেই তরি-ঘরি করে মাঠে নেমেছিলেন কৃষকরা। জমির আইল কাটা এবং জমিতে পাওয়ারটিলার দিয়ে চাষ করে চারা রোপনের পর চাষাাবাদকুত সেই ধান কাটতে চরম ব্যবস্থ হয়ে পরেছেন।

উপজেলার জামালপুর এলাাকার কৃষক ছাত্তার মন্ডল বলেন, এবারে বর্ষালী জাতের ধান আবাদের জন্য ইতি মধ্যে ২ বিঘা জমিতে চারা রোপন করা হয়েছিল। সম্প্রতি ধান কাটা শুরু করা হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ মন হারে ধানের ফলন পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।

ধান কাটা শ্রমিক মিলন ও আতাউর রহমান জানান, আমরা শ্রম বিক্রি করে দিনাতিপাত করি। ইরি-বোরো ধান কাটার পর আমাদের দীর্ঘদিন বসে থাকতে হয়। এর ফলে অর্থ সংকটের শিকার হই। এখন ওই চিন্তা থেকে রেহাই পেয়েছি। কারণ-বোরো ধান কাটার পরই বর্ষালী ধান রোপন করছেন কৃষকরা। তাই এ চাষাবাদে আমারা শ্রম বিক্রি করতে পেরে আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া জানান, কৃষকরা ব্রি-৪৮ ও ৫৫ এবং কুদরত জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে ৯০ দিনের মধ্যে এ ধান কর্তন করার পর এখন আমন ধান চাষাবাদ করতে পারবেন কৃষকরা।

সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জোবায়দুর রহমান জানান, গত বর্ষালী মৌসুমে এই উপজেলায় মাত্র ৪৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন কৃষকরা। কৃষকরা ভাল ফলন পাওয়ায় এবারে ১ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বর্ষালী ধান করেছেন। এবারে আশাতীত ফলন ঘরে তুলতে পারবেন কৃষক মহল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য