গণপিটুনির আশঙ্কা উপহারের গরু ফিরিয়ে দিলেন মুসলিম নারী এমপিভারতের বিভিন্ন স্থানে স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের তাণ্ডবে আতঙ্কিত হয়ে শঙ্করাচার্যের উপহার দেয়া গরু ফিরিয়ে দিলেন মুসলিম নারী সংসদ সদস্য তাজিন ফাতেমা।

উত্তর প্রদেশের সাবেক মন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খানের স্ত্রী তাজিন ফাতেমা এমপি গতকাল (বুধবার) গণমাধ্যমকে বলেন, চারপাশে যা হচ্ছে, তাতে তিনি ভয় পাচ্ছেন। তার আশঙ্কা, কেউ হয়তো গরুটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে মেরে ফেলে তাদের ঘাড়েই দোষ চাপাতে পারে।

গোবর্ধন পীঠের শঙ্করাচার্য অধ্যক্ষনন্দ মহারাজ ‘খান পরিবার’কে ওই গরুটি উপহার দিয়েছিলেন। তাজিন ফাতিমা তার এমপি তহবিল থেকে গো-শালার জন্য ২৫ লাখ টাকা অনুদান দেয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আর কখনো গো-শালায় যেতে চান না।

অন্যদিকে, আজম খান মুসলিম দুধ বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে এক আবেদনে জানিয়েছেন, তারা যেন গরুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ব্যবসাগুলো থেকে সরে আসেন। তিনি বলেছেন, যে সমস্ত মুসলমানরা গরুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তারা যেন এখনই সেই ব্যবসা বন্ধ করে দেন। যাতে নিজেদের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও রক্ষা করা যায়।

সংসদ সদস্যা তাজিন ফাতেমার গরু ফিরিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের বিশিষ্ট সিনিয়র অধ্যাপক ড. আফরোজা খাতুন আজ (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, “সাংসদ হলেও তিনি তো মানুষ। তিনি একজন ব্যক্তি মানুষ। তিনি চারদিকটা বেশি করে দেখছেন। আমরা দেখছি বিভিন্ন মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। আমার এতদিনের পরিচিত মুখগুলো, আমার কর্মক্ষেত্রের কিছু মুখকে কীভাবে বিষাক্ত করে দেয়া হয়েছে তা বুঝতে পারছি।

সেক্ষেত্রে একটা নিরাপত্তার কথা তো ভাবতেই হয়, পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হয়। তখন কিন্তু আমরা আতঙ্কিত হই। মনে হয় যে, আমি যে মাংসটা কিনে নিয়ে আসছি, তা পাঠার মাংস হলেও আমাকে কেউ সন্দেহ করছে না তো! আমি কী খাবো সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। আমাকে কত গোপনে খেতে হবে, এই যে প্রতি মুহূর্তে একটা আতঙ্ক, যে জায়গায় তিনি ব্যক্তি মানুষ, তিনি সাংসদ, মন্ত্রী যা-ই হোন না কেন তিনি তো পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন, একটা ভয়ঙ্কর জায়গায় আমরা চলে যাচ্ছি!”

তিনি বলেন, “আমরা খুব কঠিন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি। এজন্য ২০১৯ সাল (লোকসভার সাধারণ নির্বাচন) আমাদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। যেভাবেই হোক, যে শক্তিতেই হোক এই গেরুয়া বাহিনী ও সাম্প্রদায়িক বাহিনী ও সরকারের পতন চাই। যেভাবেই হোক আমাদেরকে একজোট হতে হবে। এটা মনে হয় আমাদের সকলের একটা প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার নেয়ার সময় হয়েছে। আমাদেরকে জোট বেধে, হাতে হাত রেখে আরো অনেক বেশি শক্তিশালী হতে হবে। অন্যথায় দেশের গণতন্ত্র তো থাকবেই না, সংখ্যালঘুরা শেষ হয়ে যাবে। অসম থেকে শুরু করে গোটা দেশে যা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে আমরা আর মনে হয় টিকতে পারবো না যদি সেই সচেতনতা গড়ে না তুলি।’

ড. আফরোজা আরো খাতুন বলেন, ‘এই সরকার একটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে। বলা হচ্ছে, গরুর ব্যবসা বন্ধ করুন, গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করুন। কিন্তু গরুর মাংস কেন খাবো না? হিন্দু ধর্মে কোথায় ছিল যে গরুর মাংস খাওয়া যাবে না? সামাজিক কারণে গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ হয়েছিল। এই ইতিহাস কী তারা জানেন না? সেকালে অতিথিকে কচি গরুর মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। এই ইতিহাসকে কীকরে বিকৃত করা হচ্ছে? সবটাই হচ্ছে সংখ্যালঘুদের দমন করার জন্য, তাড়িয়ে দেয়ার জন্য, মেরে ফেলার জন্য এক শুরু করেছে গরুর মাংস, আর এক শুরু করেছে ‘লাভ জিহাদ’ ল্যান্ড জিহাদ বিভিন্নভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য