নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিমসৈয়দপুর শহরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম। নিম্নমানের এসব আইসক্রিম খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিশুসহ উঠতি বয়সীরা।

এছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই গড়ে ওঠা আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা পকেট ভারী করলেও মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

শহরের বাঁশবাড়ী টালি মসজিদ সংলগ্ন মধু আইসক্রিম ফ্যাক্টরি গিয়ে দেখা গেছে ফ্যাক্টরির মালিক আফতাব উদ্দিন একটি গামলাতে মেশাচ্ছেন ক্ষতিকারক রং। যা দিয়ে তৈরি করা হবে আইসক্রিম।

সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা একটি বিশাল হাউজে রয়েছে লবন মিশানো পানি, বাশের নোংরা বাতা ও কাঠি। আরো রয়েছে তেলাপোকার সাথে টিকটিকিও। অন্য আরেকটি হাউজে রয়েছে ৩দিন আগের লবন ও সেকারিন মিশানো পানি।

ওইসব পানি দিয়ে তিনি তৈরি করছেন আইসক্রিম। ফ্যান ছাড়া ধরে প্রচন্ড গরমে চপচপ করে ঘাম ঝড়ে পড়ছে ওই সব পানিতে। একই এলাকার সোনার বাংলা আইসক্রিম ফ্যাক্টরির অবস্থা আরো শোচনীয়।

তৈরি করা আইসক্রিমগুলো আকর্ষণীয় প্রচারের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে শহরের অলিগলি ও উপজেলার হাট-বাজারসহ স্কুল কলেজের সামনে। একটি আইসক্রিম বিক্রি করা হচ্ছে ২ টাকা থেকে ৫ টাকা দরে।

প্রচন্ড তাপদাহে শিশুসহ বড়রাও তৃষ্ণা মিটাতে ওইগুলো খাচ্ছে। এর ফলে প্রায় প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে ডায়ারিয়া, আমাশয়, সর্দী, কাশিসহ নানা রোগে।

নোংরা পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করা নিয়ে কথা হয় মধু আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক আফতাব ও সোনার বাংলা ফ্যাক্টরির মালিক মমতাজের সাথে। তারা বলেন, আমাদের ফ্যাক্টরিগুলো অপরিষ্কার নয়।

মাসে ১ দিন হলেও পরিস্কার করা হয়। কি কি বৈধ কাগজপত্র আছে জানতে চাইতে তারা বলেন, কাগজের কোন দরকার তাদের পরে না। কর ও ভ্যাট অফিসসহ স্যানেটরি বিভাগের লোকজনদের হাতে রাখলেই হয়।

কিভাবে তাদের হাতে রেখেছেন জানতে চাইলে তারা বলেন, ওইসব অফিসের লোকজন এলেই তাদের এক, দেড় হাজার দিলেই সব পাড়। মাসে কত টাকা ইনকাম করেন জানতে চাইলে তারা বলেন, তেমন একটা হয় না।

সংসারের খরচ শেষে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মত প্রতি মাসে জমা করতে পারেন তারা। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেন কেন জানতে চাইলে বলে, সরকার কি তাদের দেখতে আসবেন।

যাদের প্রতিমাসে টাকা দেয়া হয় তারাই তাদের সরকার বলে জানান তারা। নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি বা উৎপাদন করা কারখানা স্থাপন করতে প্রয়োজন হয় ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই লাইসেন্স পরিবেশ ও ফ্যায়ার ব্রিগেড লাইসেন্স, ভ্যাট ও করসহ আরো কয়েকটি।

কিন্তু এ শহরে স্থাপিত আইসক্রিম বা একাধিক কারখানার মালিকদের নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। এর পরেও তারা দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা আইসক্রিম বাণিজ্য। অথচ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সব জেনেও রয়েছেন একেবারেই নিরব।

স্যানিটেশন বিভাগের কর্মকর্তাকে না পেয়ে কথা হয় ভ্যাট অফিসের ইন্সপেক্টর সোহেলের সাথে তিনি বলেন, ওইসব আইসক্রিম ফ্যাক্টরিগুলো কোথায় তা তিনি জানেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বজলুর রশীদ বলেন, যারা ওইসব বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন তাদেরই অভিযানে নামা দরকার। যারা সরকারকে কর ফাঁকি দেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য