দিনাজপুরে ড্রাগন ফল চাষে লাভবান হচ্ছেন আয়েতুল্লাহদিনাজপুর সংবাদাতাঃ চাষ উপযোগী মাটি ও লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ড্রাগন চাষে আগ্রহী অনেক চাষী। আর তারা অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে বলে জানায় ড্রাগন চাষীরা। এককালীন বিনিয়োগ করে দুই যুগ ধরে আয়ের উৎস গড়া যায় এই ড্রাগনের বাগান থেকে। এ ছাড়াও এ ড্রাগন চাষের বাগানে অন্য যে কোন চাষও করা যায়।

আবার পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ড্রাগনের ঠিকমত পরিচর্যা করলে ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের একটি গাছে ৫ থেকে ২০টি ফল পাওয়া যায়। কিন্তু পূর্ণবয়স্ক একটি গাছে ২৫ থেকে ১০০টি ফল পাওয়া যায়। এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফল বেশী হতে দেখা যায়।

এ এলাকায় ড্রাগন ফলের পরিচিত কম থাকলেও এটা লাভজনক হওয়ায় আগ্রহী হয়ে চাষ করছেন দিনাজপুরের শেখপুরা ইউপি’র রাজারামপুর গ্রামের জায়িম উদ্দিনের ছেলে আয়েতুল্লা খোমেনি।

পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর। ড্রাগন ফল প্রতি কেজী ৫০০ থেকে ১২০০টাকায় বিক্রি হয়। ৬ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ করে প্রতি বছর কমপক্ষে ৪০হাজার থেকে ১লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান আয়েতুল্লা খোমেনি।

উদোক্তা কৃষক আয়েতুল্লা খোমেনি জানান, হর্টিকালচার থেকে প্রাপ্ত ২০১৪ সালের ৯ জুলাই আমার ৬ শতক জমিতে ড্রাগন গাছের ৮০টি চারা লাগাই। পরের বছর থেকে ফল ধরে। ভিয়েতনাম জাতের। তবে এখানে সাদা ও লাল ধরনের ফল ধরে। গত মাসে ১৭কেজী ফল বিক্রি করেছি। তার বাগানে সেসহ তার বাবাও পরিচর্যা করেন। বাগানটি আরও বড় করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে। চারাও তৈরী করে বিক্রি করেছি।

আয়েতুল্লা খোমেনি আরও জানান, জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে সমান করে ২ মিটার পরপর সারি করে চারা লাগালে ভাল। রোপণের মাস-খানেক আগে গর্ত তৈরি করে তাতে সারমাটি দিয়ে ভরে রেখে দিতে হয়। বছরের যেকোনো সময় চারা লাগানো যেতে পারে। তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাগালে ভালো।

ড্রাগন ফল প্রচুর আলো পছন্দ করে। পানি জমে না এমন উঁচু জমিতে এ ফলের চাষ করা ভালো। শুষ্ক মৌসুমে অবশ্যই সেচ ও বর্ষা মৌসুমে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য