ধরলা-তিস্তায় মাছের আকাললালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলা নদীতে যথেষ্ট পানিপ্রবাহ না থাকায় মাছ অনেক কমে গেছে। প্রতি বছর মৎস সপ্তাহে দেশী মাছের অভয়ারণ্য বৃদ্ধি এবং চাষের মাছ বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

ফলে দেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও উৎপাদন ঘাটতিতে আছে লালমনিরহাট। এ বছরও ১০ হাজার ১২৪ দশমিক ৯৩ টন উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে উত্তরবঙ্গের এই জেলা।

লালমনিরহাট মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজানসহ মোট ১৩টি নদী। এছাড়া জলাশয়ের মধ্যে বিল ১ হাজার ১৯৬ হেক্টর, পুকুর ২ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৪২ হেক্টর, ধান ক্ষেত ১ হাজার ৬৩৪ হেক্টর, বোরোপিট ১১৩ দশমিক ৮০ হেক্টর, পেন কালচার ১৫০ দশমিক ৫০ হেক্টর, প্লাবন ভূমি ২ হাজার ২১০ দশমিক ৪০ হেক্টর এবং খাল রয়েছে ২৮৬ হেক্টর।

এসব জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ ও প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব উৎস থেকে সারাবছর ১৮ হাজার ৪৬০ টন মাছ উৎপাদন হয়। তবে তা মোট চাহিদার ১০ হাজার ১২৪ দশমিক ৯৩ টন কম।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিফুর রহমান সরকার জানান, জেলায় রেণু পোনা ও পোনা উৎপাদনেও ঘাটতি রয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কেজি। তবে মৎস্য বিভাগ এ ঘাটতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে।

লালমনিরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারুকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য ৬০ গ্রাম মাছ প্রয়োজন। সেই হিসাবে এ জেলায় বার্ষিক মাছের চাহিদা ২৮ হাজার ৫৮৪ দশমিক ৯৩ টন। কিন্তু উৎপাদনে ১০ হাজার ১২৪ দশমিক ৯৩ টন ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিস্তা ও ধরলা নদীর উজানে ভারত বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এ দুই নদী থেকে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর বিলুপ্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তিস্তা ব্যারাজ অবস্থিত গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, আশি বা নব্বইয়ের দশকে তিস্তা ও ধরলায় শুশুক, ডলফিন, ঘড়িয়াল প্রায়ই দেখা যেত। বিভিন্ন প্রজাতির মাছও ব্যাপকভাবে পাওয়া যেত। তবে এখন এসব মাছ ও জলজ প্রাণী একেবারেই কমে গেছে। তবে নদীর ভারতের অংশে এখনো প্রচুর পরিমাণে আছে।

এদিকে তিস্তা ও ধরলায় বোরালি মাছ কমে যাওয়ায় লালমনিরহাটে একটি ঐতিহ্যের মৃত্যু হতে বসেছে। অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু মাছটি ইদানীং খুবই কম পরিমাণে ধরা পড়ছে। বাজারে বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। ডানকিনি মাছের মতো দেখতে এ মাছ মূলত তিস্তা ও ধরলা নদীতেই পাওয়া যায়। বর্তমানে সৈয়দপুর উপকেন্দ্রে মাছটির বংশবিস্তার এবং পুকুরে চাষযোগ্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খোন্দকার রশীদুল হাসান বলেন, বোরালি মাছটি মূলত তিস্তা ও ধরলা নদীতে পাওয়া যায়। পানি সংকটের কারণে সুস্বাদু এ মাছ বিলুপ্তির পথে। এটি সংরক্ষণ এবং বিস্তারে এরই মধ্যে গবেষণার জন্য স্কিম প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে আমরা কিছু মাছ তিস্তা থেকে সংগ্রহ করেছি। কৃত্রিম প্রজননসহ যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজও শুরু হয়ে গেছে। স্কিমটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণার কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য