কর্মস্থলে বসার অধিকার পেল কেরালার নারী বিক্রয়কর্মীরাভারতের কেরালার নারী বিক্রয়কর্মীরা এখন থেকে কর্মস্থলে ‘বসার এবং টয়লেট ব্যবহারে পর্যাপ্ত সময়’ পাবেন। রাজ্যের শ্রম অধিদপ্তর শ্রম আইন সংশোধন করে নারী শ্রমিকদের এ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কেরালার ৪৩ বছরের মায়া দেবী ২০ বছর ধরে কাপড় বিক্রির দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসবে কাজ করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে কর্মক্ষেত্রে তিনি কখনো বসার সুযোগ পাননি। এমনকি কর্মক্ষেত্রে তার টয়লেট যাওয়ার অনুমতিও ছিল না।

তিনি বলেন, “দোকানে যখন কোনো ক্রেতা থাকতেন না তখনও আমাদের বসার অনুমতি ছিল না। এর অন্যথা হলে বেতন কেটে নেওয়া হত।”

বছরের পর বছর ধরে ভারতের নারী বিক্রয়কর্মীদের এই যন্ত্রণা সহ্য করে কাজ করে যেতে হচ্ছে। কেরালায় নারীদের একটি ইউনিয়ন দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত এ অধিকার আদায় করতে পেরেছে।

ওই ইউনিয়নের নেত্রী বিজি পালিতোদি (৪৮) ‘রাইট টু সিট’ নামে একটি আন্দোলন গড়ে তোলেন।

পালিতোদি জানান, মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি একটি দর্জি দোকানে কাজ শুরু করেন। কাজ করতে করতে মায়া দেবীর মত নারীদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যারা বিভিন্ন দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাদের যন্ত্রণার কথা শুনে তিনি তাদের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন।

২০০০ সালের শুরু থেকে তিনি নারীদের সঙ্গে বসে তাদের কর্মপরিবেশ ও বেতন ক্ষেত্রে যেসব ছাড় দিতে হয় তা নিয়ে আলোচনা ‍শুরু করেন।

“বৈঠকগুলোতে ভয়াবহ তথ্য উঠে আসে। টয়লেটে যাওয়ার অনুমতি নেই বিধায় তারা গ্রীষ্মকালে যতটুকু পানি পান করে তা রীতিমত তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাদের বসার অনুমতি ছিল না। সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হত এবং অন্যথা দেখলে বেতন কাটা হত।”

কর্মক্ষেত্রে নারীদের এইরকম নাকাল হতে দেখে তিনি ‘পেনকোতাম’ নামে একটি ইউনিয়ন গঠন করেন। যার অর্থ ‘নারীদের ভিড়।’

পেনকোতাম এখন শুধু ‘বসার অধিকারের’ প্রতিশব্দ নয় বরং সংগঠনটি এখন নারীদের বেতন ও কর্মপরিবেশ নিয়েও কাজ করছে।

মায়া বলেন, নিজের অধিকারের জন্য লড়াইয়ের উৎসাহ তিনি বিজি পালিতোদির কাছ থেকে পেয়েছেন।

কেরালায় শ্রম আইন সংশোধন:

গত ৪ জুলাই কেরালা সরকার কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের বসার অধিকার দিতে শ্রম আইন সংশোধনের ঘোষণা দেয়।

শ্রম অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “যেসব ঘটনা ঘটার কথা ছিল না সেগুলো ঘটছে। তাই নারী শ্রমিকদের জন্য আমরা আইন ঠিক করে দিয়েছি। কর্মক্ষেত্রে তাদের জন্য অবশ্যই বসার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং তাদের টয়লেট ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।”

আইন অমান্যকারী দোকান মালিকদের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য