অযত্ন অবহেলায় দীর্ঘদিন ইয়ার্ডে পড়ে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বোনারপাড়া-সান্তাহার-লালমনিরহাট সেকশনে যাত্রীবাহি ট্রেন সংকটের ফলে রেল যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন, বগি, ড্রাইভার, গার্ড ও জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিমাতা সূলভ আচরণ করে দীর্ঘদিনের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগের কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। ফলে ক্রটিপূর্ণ ইঞ্জিন ও বগি দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে পশ্চিমাঞ্চল রেলের ট্রেনগুলো।

প্রতিনিয়তই ট্রেনগুলো বিলম্বে চলাচল করার কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যাত্রীরা ট্রেনে চলাচল পরিহার করে বাসে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এ জন্য জনদুর্ভোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি রেলের যাত্রীর পরিমাণও ব্যাপক হারে কমেছে।

প্রসঙ্গত উলে¬খ্য যে, বোনারপাড়া থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিরহাট-বোনারপাড়া-সান্তাহার রেললাইনে লোকাল, মেইল, আন্ত:নগরসহ এখন প্রায় ১২টি আপ-ডাউন ট্রেন চলাচল করে থাকে। অথচ আগে ২০টি ট্রেন আপ-ডাউন করতো।

প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের অভাব দেখিয়ে বোনারপাড়া থেকে দিনাজপুরের মধ্যে চলাচলকারি অত্যান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ যাত্রীবাহি ট্রেন রামসাগর, ৪৮১ ও ৪৮২ আপ ও ডাউনসহ ৪টি ট্রেন দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিন, ড্রাইভার, গার্ড ও জনবলের সংকট দেখিয়ে যথেষ্ট আয় ও যাত্রীদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কোন কারণ ছাড়াই এই ট্রেনগুলো বন্ধ দেয়া হয়।

অথচ রেলওয়ের একটি বিশেষ সুত্রে জানা গেছে, রামসাগর আপ ও ডাউন ট্রেন দুটির প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন, বগি, গার্ড এবং ড্রাইভার এখন বহাল থাকা সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ওই ট্রেন দুটি এখনও চালু করছে না।

এদিকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাতে অবসরজনিত কারণে দক্ষ জনবল দিন দিন কমে যাওয়ায় পুরাতন ইঞ্জিন, বগিগুলোর মেরামত কাজও বিঘিœত হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় মেরামতের অভাবেও সামান্য ত্র“টি বিচ্যুত নিয়েই রেল ইঞ্জিন ও বগিগুলো অযতেœ অবহেলায় দীর্ঘদিন ইয়ার্ডে পড়ে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সমস্যা তো কমছেই না বরং সংকট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রেলওয়ের সূত্র থেকে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েকে সবসময়ই অবহেলার চোখে দেখা হয়েছে। দিনাজপুর-পঞ্চগড়-লালমনিরহাট-বোনারপাড়া-সান্তাহার-বালাসী এই রেল সেকশনে কখনই নতুন ইঞ্জিন ও বগি দেয়া হয়নি। বিদেশ থেকে আমদানী করা নতুন ইঞ্জিনগুলো দীর্ঘদিন পূর্বাঞ্চলে চলাচলের পর পরাতন হলে বা ক্রটি দেখা দিলেই তা মেরামত করে পাঠিয়ে দেয়া হয় পশ্চিমাঞ্চলে।

উত্তরাঞ্চলে নতুন ইরানিয়ান কোচ নামে রেলওয়ে বগি সরবরাহ করা হলেও তাও আসলে মেরামত করে নতুন নামে চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমাঞ্চল রেল সেকশনের রেলযাত্রীদের সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান বিমাতাসূলভ আচরণের কোন কারণ জানা যায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য