ষ্টাফ রিপোর্টারঃ কয়লা সংকটের কারনে আগামি কাল সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের একমাত্র কয়লা ভিক্তিক দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগওয়াড তাপ বিদুৎ কেন্দ্র। এতে বিদুৎ সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের আট জেলা।

App DinajpurNews Gif

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেছেন, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ(বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি) কতৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায়, তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

জানা গেছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে উত্তোলন কৃত কয়লা মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে, এই কারনে গত ১৯ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মদ ও কোম্পানীর সচিব (জিএম প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে প্রত্যাহার করেছে, খনিটির নিয়ন্ত্রন কারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা।

একই কারনে মহাব্যবস্থাপক ( মাইনিং এন্ড অপরেশন) এটিএম নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টার) খালেদুল ইসলাম দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিস্কার করেছে।

যদিও খনি কতৃপক্ষ বলছে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা সিসটেম লস। তাদের দাবী গত ২০০৭ সাল থেকে খনিটিতে বানিজ্যিক ভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে, এই পর্যন্ত খনি থেকে এক কোটি ১০ লাখ মেটন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। ্এর মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা সিসটেম লস হয়েছে।

এদিকে বিদুৎ সরবরাহ কারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেক্ট্রি সাপ্লাই কোম্পানী লিঃ নেসকো এর রংপুর জোন এর প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগওয়াড বিদুতের প্রয়োজন, এর মধ্যে ৫২৫ মেগওয়াড বিদুৎ আসে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্র থেকে, কিন্তু কয়লা সংকটের কারনে গত এক মাস থেকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের ২টি ইউনিট বন্ধ থাকায়, সেখান থেকে মাত্র ১৫০ মেগওয়াড বিদুৎ আসতো।

এই কারনে গত এক মাস থেকে বিদুতের কিছু ঘাটতি দেখা দেয়, এখন পুরোপুরি বিদুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় এই ঘাটতি আরো বাড়লো। তিনি বলেন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হলেও, বাহির থেকে বিদুৎ এনে চাহিদা পুরোন করা হবে, তবে এতে বিদুতের ভোল্টেজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, এর সাথে লোড শেডিং হতে পারে।

এদিকে বিদুতের ঘাটতি দেখা দিলে বড় রকমের লোকশানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্টান গুলো। ফুলবাড়ী লাভলী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাঃ লিঃ এর চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বলেন প্রতিদিন ২ ঘন্টা বিদুতের লোড শেডিং হলে প্রতিদিনে ৫লাখ টাকা লোকশান গুনতে হবে। এই কথা বলেন মির্জা গ্রুপ অব ইন্ডাঃ এর জেলারেল ম্যানেজার মশিউর রহমান। তারা বলেন ঘনঘন লোড শেডিং হলে সুধু লোকাশনেই হয়না, মেশিনের ক্ষতি হয়, এতে লোকশানের পরিমান আরো বাড়ে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর মহাব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে নতুন ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে, কয়লা উত্তোলন শুরু হলেই কয়লার এই সংকট শেষ হয়ে যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য