08 18 18

শনিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

Home - রংপুর বিভাগ - পলাশবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যাপক অনিয়ম

পলাশবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যাপক অনিয়ম

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি না থাকায় ব্যাপক অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে।

সরেজিমন তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নে বাড়াইপাড়া ১, ২ ও কিশোগরাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদ্যালয় সঠিক সময়ে উপস্থিতি এবং সঠিক সময়ে বন্ধ করে যাওয়া নিয়ে অব্যাহত অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষকরা যখন খুশি বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে নিজের ইচ্ছামত বিদ্যালয় ত্যাগ করে।

উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয় গুলোতেই একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাড়াইপাড়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কোন শিক্ষককেই উপস্থিত পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মাহামুদা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন স্কুল চলছে, চলবে-সবাই আসবে।

অপরদিকে বাড়াইপাড়া ১নং বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমানকে সহকারি শিক্ষক আব্দুল গোফ্ফার ও রোসনা বেগমের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা তারা তাদের নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেন। প্রধান শিক্ষক আরো বলেন অনেক বার যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আশার জন্য শিক্ষকদের বলেছি। কিন্ত তারা সময়মত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে না।

পাশাপাশি ২টি বিদ্যালয়ের যথারীতি তদারকি না থাকায় শিক্ষকগণ অনিয়ম তান্ত্রিক ভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো শিক্ষার মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদপেক্ষ গ্রহণ করলেও অধিকাংশ শিক্ষকদের খাম-খেয়ালিপনায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

শনিবার দুপুরে সরেজিমন কাশিয়াবাড়ী ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ২টার মধ্যে বিদ্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে সকল শিক্ষক চলে যায়। এ ব্যাপারে অত্র বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার একেএম জাকির হোসেনকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি দেখবেন বলে জানায়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্যাহিশ শাফীর মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রশিক্ষণে আছেন বলে জানায়।

এদিকে শনিবার হতে বুধবার পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার ৯টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিদ্যালয় চালুর নিয়ম থাকলেও তা সঠিক ভাবে পালন করা হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচেতন অভিভাবক জানান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারদের সঠিক তদারকি না থাকার কারণে বিদ্যালয়গুলো শিক্ষা ব্যবস্থার মান অবনতির দিকে যাচ্ছে।