12 10 18

সোমবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২রা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Home - রংপুর বিভাগ - কুড়িগ্রাম-৩ আসনে কে জিতবে নৌকা নাকি লাঙ্গল ?

কুড়িগ্রাম-৩ আসনে কে জিতবে নৌকা নাকি লাঙ্গল ?

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে প্রচারণা জমে উঠেছে। দিনক্ষনও ঘনিয়ে আসছে। আগামী বুধবার (২৫ জুলাই) ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এরইমধ্যে ভোটের হিসাব নিকাশ কষছেন উভয়দলের কর্মি সমর্থকরা। ভোটের মাঠে কে জিতবে নৌকা নাকি লাঙ্গল ? তবে জাপা কর্মী-সমর্থক প্রার্থীর দাবী ভোট সুষ্ঠ্য হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জাপা প্রার্থী বিজয়ী হবে।

App DinajpurNews Gif

ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে নিজ নিজ দলের কর্মি সমর্থকরা তত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচারণায় দুই দলের প্রার্থী কর্মী সমর্থকদের নিয়ে চষে বেরাচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। জয়ের ব্যাপারে উভয় প্রার্থী শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচনী প্রচারণায়ও তারা ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। তবে শেষ হাসি কে হাসবেন? এমএ মতিন নাকি ডাঃ আক্কাছ আলী সরকার ? এই প্রশ্নে বিভক্ত উলিপুরের সূধিসমাজ। তারা বলছেন, এবারে দল নয় বরং সাধারণ ভোটারদের সমর্থন যে দিকে যাবে তিনিই জিতবেন। তাদের মতে, শুধু দল নয় এ নির্বাচনে জাপা প্রার্থী ডাঃ আক্কাছ আলী সরকারের ব্যক্তি ইমেজও কাছ করছে। জাতীয় পাটির প্রার্থী অধ্যাপক ডাঃ আক্কাছ আলী সরকার তার প্রতিষ্ঠান রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন থেকে এলাকার মানুষের স্বল্প মুল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

এ ছাড়া বিগত কয়েক বছর ধরে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকার গ্রামগঞ্জে মসজিদ-মন্দির সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মানে সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে ভোট পাওয়ার পথ তিনি সহজ করেছেন। এদিকে,বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড দেশের উন্নয়ন ধারাবাহিক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে,এই উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন বঞ্চিত এ অঞ্চলের উন্নয়নে আওয়ামী দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মতিন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে ভোটারদের প্রত্যাশা আগামী ২৫ জুলাই যেন একটি সুষ্ঠ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে এখন দলীয় প্রতীক নিয়ে বিপাকে পড়েছে অনেকে। ভোটাররাও রয়েছে অনেক সমস্যায়। প্রার্থী পছন্দ হলেও অনেকের প্রতীক পছন্দ না হওয়ার কারণে পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারছেন না। অপরদিকে, প্রতীক নিজ দলের হলেও প্রার্থী পছন্দ না হওয়ার কারণে কাঙ্খিত ওই প্রতীকে ভোট প্রদানে দ্বীধাদ্বন্দে আছেন অনেকেই।

এদিকে, উভয় প্রার্থীই প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে মাঠে এখন ক্লান্তিহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলার সর্বত্রই সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচনের দিনযতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটের মাঠ জমে উঠেছে। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের বিগত দিন গুলোর কথা স্বরণ করে ভোটারদের মাঝে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা । অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতীক নয় প্রার্থীকেই প্রাধান্য দেবে তারা। কাঁকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা। ভোটারদের সমর্থন পেতে সভা-সমাবেশ উঠান বৈঠক ছাড়াও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকরা। ভোটারদের মন জয় করতে এলাকার রাস্তা-ঘাট,স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষারমান উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরিকরণ, কৃর্ষিতে উন্নয়ন সহ সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন প্রার্থীরা। দূষণমুক্ত পরিবেশবান্ধব সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথাও বলছেন তারা। সূধি সমাজ মনে করেন, একজন সৎ ও আদর্শবান, দুর্নীতিমুক্ত ও নির্মল মনের অধিকারী সেই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করা হলে উন্নয়ন বঞ্চিত উলিপুর-চিলমারী উপজেলাবাসীর সার্বিক উন্নয়ন ত্বরানিত হবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ মে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এ কে এম মাঈদুল ইসলামের মৃত্যুতে এ আসনটি শূন্য হয়। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাাম-৩ উপ-নির্বাচনে উলিপুর উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়ন ও চিলমারী উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন (রমনা, থানাহাট, চিলমারী ও রাণীগঞ্জ) নিয়ে গঠিত। এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮‘শ ৯৬ জন। পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪‘শ ৩৮জন ও মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৪‘শ ৫৮জন। গত ১০ জুন নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেন। আগামী ২৫ জুলাই ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য