দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশদিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গড় পাশের হার ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ। এবারে পাশের হার ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা দু’টোই কমেছে। তবে জিপিএ-৫ সামান্য বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) দুপুর দেড়টায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তোফাজ্জুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১জন। অকৃকার্য হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৫৬ জন পরীক্ষার্থী। গড় পাশের হার ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৯৭ জন। ছাত্রদের পাশের হার ৫৬.২২ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাশের হার ৬৪.৫১ শতাংশ। এছাড়া ১২টি কলেজ থেকে একজনও পাশ করতে পারেনি।

বিজ্ঞান বিভাগে ২৬ হাজার ৯৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ন হয়েছে ১৮ হাজার ৮৮৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮ জন। বিজ্ঞান বিভাগে গড় পাশের হার ৭০.০৯ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৭৬ হাজার ৩৭ জনের মধ্যে ৪৩ হাজার ২৫৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ন হয়েছে। মানবিক বিভাগে গড় পাশের হার ৫৬.৮৯ শতাংশ। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২০৩ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৬ হাজার ৫২২ জনের মধ্যে উত্তীর্ন হয়েছে ৯ হাজার ৮০৬ জন। গড় পাশের হার ৫৯.৩৫ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৮৬ জন।

বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গড় পাশের হার ৬০.২১ শতাংশ। তিন বিভাগে ছাত্রদের গড় পাশের হার ৫৬.২২ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাশের হার ৬৪.৫১ শতাংশ।

ফলাফল প্রকাশ করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান জানান, ইংরেজী বিষয়ে পাশ কম হওয়ায় এবারে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের দক্ষ করে তুলতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া যেসব কলেজ থেকে কেউই পাশ করতে পারেনি, কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই সেসব কলেজ বন্ধ করে দেয়ার কথা জানান।

বিগত কয়েক বছরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল নিম্নরুপ-২০১২ সালে ৮৫ হাজার ৭৭৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬৪ হাজার ৬৭৯ জন। পাশের হার ছিল ৭৫.৪১ ভাগ, ২০১৩ সালে ৮৮ হাজার হাজার ৪৪৪ জনের মধ্যে ৬৩ হাজার ৬২৪ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ছিল ৭১.৯৪ ভাগ।

২০১৪ সালে ৯৭ হাজার ৩৩ পরীক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হয় ৭১ হাজার ৯৪০ জন ও গড় পাশের হার ছিল ৭৪.১৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে ৮৮ হাজার ৯৮৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬২ হাজার ৬৭১ জন পরীক্ষার্থী এবং পাশের হার ছিল ৭০.৪৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৭২ হাজার ৮২৯ এবং পাশের ছিল ৭০.৬৪ শতাংশ। এবং ২০১৭ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৪শ’ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬৮ হাজার ৯৭১ জন। গড় পাশের হার ছিল ৬৫.৪৪ শতাংশ। এবারে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১৯৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮টি জেলার ৬৫৩টি কলেজ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে।

ফলাফল ঘোষনা করার সময় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. আমিনুল হক সরকার, কলেজ পরিদর্শক মো. ফারাজ উদ্দীন তালুকদার, উপ-সচিব ড. আব্দুর রাজ্জাক, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. হারুনুর রশিদ, মো. মানিক হোসেন, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আজিজুল হক শাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানীসহ শিক্ষা বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরে শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার পর এটি এ বোর্ডের অধীনে দশম বারের মত এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে বিষয়ভিত্তিক পাশের হার

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে বিষয়ভিত্তিক পাশের হার নিম্নরুপ-বাংলা মোট পরীক্ষার্থী ৯৭২৭০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ৯২৬৪৬ জন। পাশের হার ৯৫.২৫ শতাংশ। ইংরেজী মোট পরীক্ষার্থী ১১৪৪৩৬ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ৭৪৯৭১ জন। পাশের হার ৬৫.৫১ শতাংশ। পদার্থ বিজ্ঞানে মোট পরীক্ষার্থী ২৪৭০০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ১৯১২৮ জন। পাশের হার ৭৭.৪৪ শতাংশ। রসায়নে মোট পরীক্ষার্থী ২৪৩৫৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ২১৩০৪ জন। পাশের হার ৮৭.৪৬ শতাংশ। হিসাব বিজ্ঞানে মোট পরীক্ষার্থী ১৪১৬৪ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ১১৬৪৮ জন। পাশের হার ৮২.২৪ শতাংশ। উচ্চতর গণিতে মোট পরীক্ষার্থী ২০৭৮১ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৬৭৩ জন। পাশের হার ৭৫.৪২ শতাংশ। পৌরনীতিতে মোট পরীক্ষার্থী ৫০৬২৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ৪৮০৪৯ জন। পাশের হার ৯০.৯০ শতাংশ। এবং তথ্য ও প্রযুক্তিতে মোট পরীক্ষার্থী ৯৯৮৮৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ৮৮২২৮ জন। পাশের হার ৮৮.৩৩ শতাংশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য