গোলান উপত্যকা থেকে বাস্তুচ্যুত সিরীয়দের ফিরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলদখলকৃত গোলান উপত্যকা সীমান্তে জড়ো হওয়া কয়েকশ বাস্তুচ্যুত সিরীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। মঙ্গলবার কুনিয়েত্রা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ওই এলাকার দখল ফিরে পেতে বিদ্রোহীদের ওপর হামলা জোরালো করায় এসব সিরীয় নাগরিক সীমান্তে জড়ো হয়। সীমান্ত বেড়া থেকে দুইশো মিটার দূরে থাকা এসব সিরীয়দের মধ্যে অনেক সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী রয়েছেন বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

১৯৭৪ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে দেশটি দক্ষিণাঞ্চলীয় গোলান উপত্যকার দখল নেয় ইসরায়েল। আর আট বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় রাশিয়ার সহায়তায় হামলা জোরালো করেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। জাতিসংঘের হিসেবে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার সিরীয় বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এসব সিরীয়দের একটি অংশ গোলান উপত্যকার সীমান্তের কাছে স্থাপিত অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। ইসরায়েল বলছে এসব তাঁবুতে মানবিক সহায়তা দিলেও তারা এসব সিরীয়দের সীমান্ত অতিক্রম করতে দেবে না।

মঙ্গলবার রয়টার্স টিভিতে সম্প্রচারিত ফুটেজে ভীড়ের দিকে তাক করা একটি মাইকে আরবিতে ইসরায়েলি সেনাদের বলতে শোনা গেছে, ‘তোমরা ইসরায়েল রাষ্ট্রের সীমান্তে আছো। ফিরে যাও। আমরা তোমাদের আঘাত করতে চাই না।’ নারী আর শিশু থাকা ওই জমায়েতটি তখন আস্তে আস্তে ফিরে যায়। কয়েকজন থেমে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে সাদা পতাকা ওড়ায়।

বিগত কয়েকমাসে সিরিয়ার দক্ষিনাঞ্চলীয় ডেরা এবং কুনিয়েত্রা প্রদেশে নতুন করে সরকার আর বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই জোরালো হওয়ায় কয়েক হাজার সিরীয় নাগরিক সীমান্তে এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।

মঙ্গলবার এক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা গোলান উপত্যকায় জড়ো হওয়াদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘খারাপ কিছু ঘটার আগে ফির যাও। আমাদের কাছে সাহায্য পেতে চাইলে ফিরে যাও।’

দখলকৃত গোলান উপত্যকা থেকে আল জাজিরার রিপোর্টার স্টেফিন ডেক্কার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার এই এলাকায় জড়ো হওয়া কয়েক শত সিরীয়কে এখন অন্য কোথাও যেতে হবে। এসব বাস্তুচ্যুত সিরীয়দের জন্য ইসরায়েল ও জর্ডান কিছু তাঁবু দিলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া তাদের থাকার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

স্টেফিন ডেক্কার বলেন, ‘আমরা যা বুঝতে পারছি তা হলো তাদেরকে এখন অস্থায়ী শিবিরের তাঁবুতে ফিরে যেতে হবে। এসব সিরীয়দের এখন বাড়তে তাকা তাপমাত্রা আর পয়নিস্কাশন ও বিশুদ্ধ পানির জন্য কষ্ট পেতে হবে।’ তিনি জানান, এসব সিরীয়রা অনেক বছর ধরে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাস করেছে এখন সিরীয় সরকার তাদের সঙ্গে কি আচরণ করবে তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এসব এলাকায় অনেক একটিভিস্ট, সাংবাদিক, আর তাদের পরিবার রয়েছে যারা সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর দখলের পর তাদের সঙ্গে কি ঘটবে তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা শাখার উপপরিচালক লামা ফাইক বলেছেন, রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের ফেরত না পাঠানোর বিষয়ে ইসরায়েল আর জর্ডান উভয়েরই বাধানিষেধ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রচন্ড বোমাবর্ষণের কারণে হাজার হাজার সিরীয় বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা শুধু পিঠে কাপড় নিয়ে চলে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘তারা এমন এলাকায় বাস করছে যেখানে অপর্যাপ্ত আশ্রয় ছাড়াই প্রচন্ত তাপমাত্রা রয়েছে। পর্যাপ্ত মানবিক সাহায্য ছাড়া অনিরাপদ এলাকায় তারা রয়েছে। আর সিরিয়া ও ইসরায়েল সরকার জিদ ধরে রয়েছে যে যেনা তারা সীমান্ত অতিক্রম করে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে না পারে।’

ফাইক বলেন বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের মধ্যে সাংবাদিক, মানবিক কর্মী ও অন্য এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা অতীতে সিরিয়ার সরকারের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, আটক হয়েছে, বিচারের মুখোমুখি হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য