ভারতীয় সংসদে তুমুল হট্টগোল, অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করলেন স্পিকারভারতীয় সংসদে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিগত প্রায় চার বছরের শাসনামলে এই প্রথম সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনার জন্য গৃহীত হল।

টিডিপি, কংগ্রেস ও অন্যদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ গ্রহণ প্রসঙ্গে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অনন্ত কুমার বলেন, সরকার শক্তি পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর গোটা দেশের আস্থা আছে, এজন্য সরকার সংসদের মধ্যে যেকোনো অনাস্থা মোকাবিলার জন্য তৈরি আছে।

আজ অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে পঞ্চাশ জনের বেশি সদস্যদের সমর্থন থাকায় স্পিকার অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেন। আগামী দশ দিনের মধ্যে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনার দিন নির্ধারণ করবেন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন।

আজ (বুধবার) সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হলে বিরোধী সদস্যদের তুমুল হট্টগোলের জেরে সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত হয়। সমাজবাদী পার্টি ও তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) এমপিরা সংসদের ওয়েলে নেমে গণপিটুনি ও অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখান।

সংসদে কংগ্রেসের এমপি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, “এই সরকারের আমলে কৃষকরা আত্মহত্যা করছে। নারীরা প্রত্যেকদিন ধর্ষিতা হচ্ছে। এজন্য সরকারের বিরুদ্ধে আমরা অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করছি।”

আজ সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় টিডিপি সদস্যরা অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে অধিবেশনের কাজ বেলা বারোটা পর্যন্ত মুলতুবি রাখতে বাধ্য হন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম বেঙ্কইয়া নাইডু।

অন্যদিকে, অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার দাবিতে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সংসদ চত্বরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অনাস্থা প্রস্তাব সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর কলেজের সিনিয়র অধ্যাপক ও বাংলা বিভাগের প্রধান ড. আসরফি খাতুন আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে এবং ভারতের একজন নাগরিক হিসেবে আমি এ কথাই বলব, যে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে, সেই অনাস্থা প্রস্তাব পাস হোক, অবশ্যই পাস হোক এবং মোদি সরকারের পতন হোক। অবশ্যই তা চাইব।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের যে প্রাণ, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’, এই সরকার ঠিক তার বিপরীত পথে যাচ্ছে। এই সরকার অবশ্যই বিদায় নেয়া উচিত। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হয়নি। বরং পেট্রোলের দাম বাড়তে বাড়তে চূড়ান্ত সীমায় গেছে, সাধারণ জিনিষপত্রের দাম বেড়েছে।’ নোট বাতিল ও জিএসটি (পণ্য ও পরিসেবা কর) চালুর মধ্যদিয়ে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বলেও ড. আসরফি খাতুন মন্তব্য করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য