বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা ॥ আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর জমি আছে ঘর নাই কর্মসূচির নামে অভিনব উপায়ে প্রতারণার অভিযোগে বিরামপুর থানায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। থানা পুলিশ প্রতারক এনজিও কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দিনাজপুর কারাগারে পাঠিয়েছে।

মামলা সূত্রে প্রকাশ, আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর জমি আছে ঘর নাই নামের কর্মসূচি সরকারী ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর নাই এমন ব্যক্তিদের ইউপি চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়রের মাধ্যমে বাছাই করে সরকারী ভাবে তালিকা প্রনয়ন করা হয়।

এইসব ব্যক্তিদের ঘর নির্মানের জন্য সরকারী ভাবে এক লাখ টাকা করে বরাদ্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকাস্থ গোল্ডেন ইনভারমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (জিইডিএফ) জয়পুরহাট আঞ্চলিক অফিসের কয়েক ব্যক্তি নিজেদের বিরামপুর উপজেলা সমন্বয়কারী হিসাবে পরিচয় দিয়ে উপজেলার ২নং কাটলা ইউ.পি চেয়ারম্যান নাজির হোসেনের নিকট গিয়ে বলে যে, তারা অতিদরিদ্র বা ৮/১০ শতক জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন ৩/৪শ’ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরী করে ঘর নির্মানের জন্য ১লাখ টাকা করে বরাদ্দ এনে দিবেন। এজন্য ফরম বাবদ ৩শ টাকা এবং টাকা বরাদ্দ বাবদ ১০ হাজার হারে ঘুষ টাকা দাবি করেন। একই ভাবে তারা উপজেলার ১নং মুকুন্দপুর, ৫নং বিনাইল ও ৬নং জোতবানী ইউ.পি চেয়ারম্যানদের নিকট প্রস্তাব দেন।

এনজিও কর্মকর্তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় কাটলা ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন এবং সোমবার (১৬ জুলাই) বিরামপুর থানায় ২জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।

মামলার আসামীরা হলেন, কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানার মানিক কাজী গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র আল-আমিন (২৫) এবং ফুলবাড়ি থানার ফকিরপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান (২৪)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক প্রদীপ চন্দ্র সরকার পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ি থেকে প্রধান আসামী আল-আমিনকে গ্রেফতার করেছেন।

এব্যাপারে জিইডিএফ সংস্থার জয়পুরহাট আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক শাহাদত হোসেন বলেন, তাদের সংস্থা স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকা- করে থাকে। ঘরবাড়ি তৈরী করে দেওয়া বা অর্থ বরাদ্দ এনে দেওয়ার কর্মসূচি তাদের নেই। মামলার আসামীরা সংস্থার কর্মী হলেও উদ্ভুত অভিযোগের জন্য সংস্থা দায়ি নয়।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, ইউ.পি চেয়ারম্যানগণ সরকারের কর্মসূচি সম্পর্কে সজাগ থাকায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে এক চেয়ারম্যান মামলা করেছেন এবং অন্য চেয়ারম্যানগণ স্বাক্ষী হয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য