পঞ্চগড়ে ফসলি জমিতে বুদবুদ নিয়ে কৌতুহলপঞ্চগড় সদর উপজেলায় একটি ফসলি জমিতে গত ৫/৬ বছর ধরে বুদবুদ দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাস আছে, আবার কেউ বলছেন তেলের খনি রয়েছে। বিষয়টি দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম দালালপাড়ার জসিম উদ্দিনের ফসলি জমিতে এই বুদবুদ উঠছে।

স্থানীয়রা জানান, ৫/৬ বছর আগে ওই ফসলি জমিতে পানি জমলে প্রথম তাদের নজরে আসে এই বুদবুদ। তারপর থেকে অবিরাম বুদবুদ উঠে চলেছে। তবে শুকনো মৌসুমে জমিতে পানি না থাকায় তা দেখতে পাওয়া যায় না। তবে পানি জমলেই আবার বোঝা যায়। ওই এলাকার আর কোথাও এমনটি দেখা যায় না।

শুধুমাত্র জসীম উদ্দিনের ফসলি জমিটিতেই এই বুদবুদ উঠছে। তাও আবার পুরো জমিতে নয়। তার দুই বিঘা জমির মধ্যে একটি ক্ষেতের আল ঘেঁষে তিন বর্গ হাতের মতো একটি জায়গায় কেবল বুদবুদ উঠছে। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা তেমন মাথা না ঘামালেও বছরের পর বছর এমনটি চলে আসায় স্থানীয়দের মাঝে বুদবুদ নিয়ে কৌতুহল বাড়তে থাকে। কেউ কেউ দিয়াশালাই দিয়ে পরীক্ষা করেও দেখছেন।

আবার কেউ কিছুটা মাটি খুড়ে বুদবুদের উৎস জানার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা কোন রহস্যই উদঘাটন করতে পারেনি। তাই দিনে দিনে কৌতুহল আরও বাড়ছে। সেই সাথে এই খবর ছড়িয়ে পড়ছে দূরদূরান্তেও। পঞ্চগড়ে ফসলি জমিতে বুদবুদ নিয়ে কৌতুহলপ্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ওই বুদবুদ দেখতে আসছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাড়িভাসা ইউনিয়নের দালালপাড়া গ্রামটি সীমান্তে অবস্থিত। এ গ্রামের জসিম উদ্দিনের ফসলি জমিতেই রহস্যে ঘেরা বুদবুদ উঠছে।

কয়েকদিন হলো আমনের রোপা লাগিয়েছেন জসিম উদ্দিন। কিন্তু লোকজন রোপা মাড়িয়েই বুদবুদ উঠা দেখতে আসছেন। মাত্র ৩ বর্গ ফুটের মতো জায়গায় বুদবুদ উঠছে। স্থানীয়রা জানালেন আগের চেয়ে বুদবুদ উঠার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। তাদের বিশ্বাস নিশ্চয়ই মাটির নিচে গ্যাস কিংবা মূল্যবান খনিজ সম্পদ রয়েছে। তাই এই বুদবুদ নিয়ে তাদের কৌতুহলের সীমা নেই। জসিম উদ্দিনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের জমিতে দীর্ঘ ৫/৬ বছর ধরে এই বুদবুদ উঠছে।

এটা নিয়ে একেকজন একেক কথা বলছে। কেউ বলছে নিচে গ্যাস আছে, কেউ বলছে তেল আছে, আবার কেউ বলছে সোনা আছে। আসলে কি আছে বা কেন এই বুদবুদ উঠছে তা আমরা জানি না। এ বিষয়ে যদি প্রশাসন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে এর কারণ জানাতো তাহলে আমরা বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট হতাম।

স্থানীয় এলাকাবাসী সাইফুল ইসলাম জানান, আর কোথায় এমন বুদবুদ উঠে না। এখানে পানি জমলেই বুদবুদ উঠে। শুকনো সময় আমরা পানি দিয়ে পরীক্ষা করেছি। তখনো বুদবুদ উঠছে। নিশ্চয়ই এর একটি কারণ আছে। যা আমরা জানি না। স্থানীয় এলাকাবাসী আব্দুল লতিফ জানান, আগে আমরা এই বুদবুদ নিয়ে তেমন গুরুত্ব দিতাম না। এখন দেখি এটি চলছেই। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে দেখার জন্য। এই বুদবুদ উঠার আসল রহস্যটা জানতে পারলে শান্তি পেতাম।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এহতেশাম রেজা জানান, যদি এমনটি হয়ে থাকে আমি খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি খনিজ সম্পদ বিষয়ক দফতরকে জানাবো। যাতে তারা পরীক্ষা নীরিক্ষা করে এই রহস্য উদঘাটন করতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য