দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হলদিবাড়ীতে সুদের ওপর নেয়া লাভের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ভ্যানচালক রুহুল আমিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে একদল যুবক। মোবাইল ফোনে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয় কালভার্টের নিচে।

হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হয় টিউবওয়েলের লোহার হ্যান্ডেল। ওই হ্যান্ডেলের বেধড়ক আঘাতে রুহুল আমিনের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তার ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি নিয়ে যায় হত্যাকারী। রুহুল হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই যুবক পিবিআই পুলিশকে এ তথ্য দিয়েছেন।

সোমবার বেলা একটায় পিবিআই রংপুর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলেনে ভ্যানচালন রুহুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে একথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ্ কাওছার পিপিএম।
পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হলদিবাড়ী রেলওয়ে কলোনীর বাসিন্দা রুহুল আমিন গত মাসের ৭ জুন বিকেলে বাসা থেকে ভ্যান নিয়ে বের হয়।

পরের দিন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর বকশিগঞ্জ ঈদগাঁহ মাঠ সংলগ্ন অবসর পিকনিক স্পটের নামক স্থানে কালভার্টের নিচ তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা খলিলুর রহমান বাদি হয়ে বদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে সেটি তদন্ত শুরু করে।

শহিদুল্লাহ্ কাওছার আরো জানান, পিবিআই রংপুর স্ব-উদ্যোগে ক্লু-লেস এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামেন। রোববার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় পার্বতীপুরের দুর্গাপুর এলাকা থেকে রুকু পারভেজ (২০) ও রেজওয়ান (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেন।

এসময় ওই দুই যুবকের কাছ থেকে নিহত রুহুল আমিনের ব্যবহৃত সিমসহ একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। এদিকে ওই হত্যা মামলায় পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সামিউল আলম বলেন, রুহুলের কাছ থেকে নেয়া সুদের টাকা পরিশোধ না পেরে উল্টো ভ্যান ও ব্যাটারি কেড়ে নিতেই পরিকল্পিতভাবে ওই ভ্যানচালককে হত্যা করা হয়। এখন পর্যন্ত দুই জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদেরকে গ্রেফতারের তৎপরতা অব্যহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য