প্রথম শীর্ষ বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-পুতিনদূরে থেকে অনেকদিন ধরে পরস্পরের প্রশংসা করার পর অবশেষে প্রথম শীর্ষ বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

সোমবার ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ শীর্ষ বৈঠক নিয়ে নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, অপরদিকে এ বৈঠক রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য একটি ভূরাজনৈতিক বিজয়।

এ শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে উষ্ণ কথাবার্তা ছাড়া বড় ধরনের কোনো সাফল্য অর্জিত হবে না বলেই মনে করছে উভয়পক্ষ। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামত শুরু করার বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে, পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও সিরিয়ার মতো কয়েকটি ইস্যু নিয়ে সংলাপ শুরু করার বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরস্পরের নেতৃত্বগুণের প্রশংসাকারী এই দুই নেতা তাদের দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম ফের পূর্ণদ্যোমে শুরু করার এবং জব্দ করা কূটনৈতিক সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও সম্মত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্রিটেনে রাশিয়ার এক সাবেক গোয়েন্দাকে বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এ শীর্ষ বৈঠক নিয়ে কোনো পক্ষই তেমন কোনো আশার কথা শোনায়নি। সিবিএস-কে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ‘খুব কম প্রত্যাশা’ নিয়ে বৈঠকটিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন; আর ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন এবিসি-কে জানিয়েছেন, ‘এই সপ্তাহে’ যুক্তরাষ্ট্র ‘পাওয়ার মতো’ কিছু খুঁজছে না এবং বৈঠকটির আলোচ্যসূচী ‘অনির্ধারিতও’ হতে পারে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আরটি টিভি স্টেশনকে জানিয়েছেন, তিনিও এ বৈঠক থেকে বেশি কিছু আশা করছেন না।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ছিন্ন হয়ে যাওয়া যোগাযোগ অল্পমাত্রায় হলেও পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এ বৈঠকে কোনো সমঝোতা হলেই বৈঠকটিকে সফল বলে মনে করবেন বলে জানিয়েছেন ল্যাভরভ।

কিছু আমেরিকান দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্রের মধ্যে রাশিয়ার ভাবমূর্তি প্রায় নষ্ট হওয়া সত্বেও ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি পুতিনের জন্য একটি ‍ভূরাজনৈতিক জয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এই বৈঠক এটি তুলে ধরছে যে ওয়াশিংটন মস্কোকে বৃহৎ একটি শক্তি হিসেবে মেনে নিচ্ছে যার স্বার্থকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, মস্কোকে পশ্চিমা দেশগুলো একঘরে করতে চেয়েছিল তা যে ব্যর্থ হয়েছে, রাশিয়ার পক্ষে তার এক শক্তিশালী ইঙ্গিত হয়ে উঠেছে এ বৈঠক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য