বীরগঞ্জে ঢেপা নদীর উপর ব্রীজটি এখন মৃত্যুফাঁদবীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৩০ বছর ধরে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মানুষ ঢেপা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজের উপর দিয়ে শত শত যানবাহন দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। যেকোন সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারাতে পারেন অসংখ্য মানুষ।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর শাখা ঢেপা নদী বীরগঞ্জ-দেবীগঞ্জ রাস্তায় ইংরেজ শাসনামলে খেয়া ঘাটের মাধ্যমে গরু গাড়ী, মহিষের গাড়ি ও মানুষ পারাপারদ হয়ে খানসামা বন্দর ও দেবীগঞ্জের বাহাদুর ফেরিঘাট হয়ে নদীপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা মহরে ব্যবসা-বাণিজ্য করত।

জনগণের ভোগান্তির কারণে ১৯৫০ সালে তৎকালীন সরকারের সময় ঢেপা। নদীতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩০ মিটার ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনারা ঐ ব্রীজটি উড়িয়ে দেয়ার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

১৯৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পঞ্চগড় জেলার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে দেশে হাজার হাজার ব্রিজ ধ্বংস হলেও ঢেপা নদীর ব্রীজটি একদিকে হেলে পড়লেও ব্রীজটি ধ্বংস হয়নি। ভয়াবহ বন্যার পর থেকে ঢেপা ব্রিজটি পূনঃনির্মাণের দাবি তোলা হয়।

এই ঝুকিপূর্ণ ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য বাই সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিক্সা-ভ্যান, অটোরিক্সা, ভটভটি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, এম্বুলেন্স, মিনিবাস, কোচসহ ভারী যানবাহন চলাচল করে মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে পারাপার করে।

ব্রীজটির উপরের অংশে রয়েছে অংখ্য ভাঙন, যা প্রতিবছর সংস্কার করে চলাচলের ব্যবস্থা করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মাঝে মধ্যে লোকজনকে ব্রিজটি মাপামাপি করতে দেখা গেলেও গকাল পর্যন্ত পুনঃনির্মাণ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে নিজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল খালেক সরকার জানান, বহুবার ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগরে সাথে যোগাযোগ করা হলেও শুধু আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই মিলেনি। ঢেপা নদীতে ৩০ মিটার দীর্ঘ ব্রীজটিতে যে কোন সময় ভারী যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী দাবি অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ঢেপা নদীর ব্রীজটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য