মার্শাল আর্ট কন্যাআজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার কৃষক পরিবারের মার্শাল আর্ট কন্যা সান্ত্বনা রানী রায়। এ বছর আমন্ত্রণ পেয়েছেন নেপালের কাঠমান্ডু। সেখানে ৬ষ্ঠ সাউথ এশিয়ান তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার। তবে এবার তার সঙ্গী হচ্ছেন আরো তিনজন প্রতিযোগী।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো অ্যাসোসিয়েশন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজান আলী স্বাক্ষরিত ৬জুলাইয়ের একটি সূত্রে জানাযায়, ৬ষ্ঠ সাউথ এশিয়ান তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপ (১৩ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই) পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

এ প্রতিযোগীয় অংশ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে দেশ ও বিদেশে ৭টি পদক, ১টি বেঞ্জ ও ১টি রৌপ্য পদক বিজয়ী সান্তনা রানী রায় এবং নাহিদুল ইসলাম খেলোয়াড় রনি প্রসাদ ও স্বপ্না কীর্তনিয়া কাঠমান্ডু যাবেন। তাদের সঙ্গে আছেন কোচ কাম দল ব্যবস্থাপক সোলায়মান শিকদার।

দলের কোচ খেলোয়াড়েরা বৃহস্পতিবার (১২জুলাই) সকাল সাড়ে দশটার দিকে ঢাকা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু উদ্দেশে যাত্রা করেন। আগামি ১৭ জুলাই তাঁরা ঢাকায় ফিরে আসবেন।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের হরিদাস গ্রামের কৃষক সুবাস চন্দ্র রায় ও মা যমুনা রানীর মেয়ে সান্ত্বনা রানী রায়।

দরিদ্র কৃষক পরিবার মেয়ে সান্ত্বনা রানী রায় তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে এলএলবি শেষ করছেন। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন লালমনিরহাট জেলার প্রথম নারী খেলোয়র সান্ত্বনা রানী রায়।

সান্তনা রানী বলেন, আমি নেপালে বাংলাদেশের একজন তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগী হিসেবে খেলতে যাচ্ছি, যেন বাংলাদেশের সম্মান রাখতে পারি। সকলের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন।

উত্তরবাংলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক সুবাস রায় বলেন, সবার সহযোগিতায় সান্ত্বনা রানী রায় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

লালমনিরহাট সাপ্টিবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুদান চন্দ্র রায় বলেন, সান্ত্বনা রানী তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় বিজয় ছিনিয়ে এনে জেলাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করবেন এটাই আশা করছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে সপ্তম এশিয়ান তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম হন সান্ত্বনা রানী রায়। ২০১৫ সালে ঢাকায় সপ্তম জাতীয় আইটিএফ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি সেরা খেলোয়াড় হন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য