মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতাঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাকদাসক্ত অবস্থায় মাতলামী করার সময় দুই মাদকসেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গত ১৩ জুলাই শুক্রবার রাতে শহরের নয়াবাজার সুরকী মহল্লা থেকে সৈয়দপুর সদর ফাড়ির ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান তাদের আটক করে। আটক ব্যক্তিরা হলো নয়া বাজার সুরকী মহল্লার শফি উদ্দিনের ছেলে ওয়াসিম (৩২) ও কুন্দল পশ্চিমপাড়া এলাকার কাল্টু মামুদের ছেলে হাসানুল হক (৪৫)।

আটককৃতদের পরেরদিন ১৪ জুলাই শনিবার দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: বজলুর রশীদ এর আদালতে উপস্থিত করলে আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদ্বন্ড প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, সুরকী মহল্লার পাশেই সৈয়দপুরের মদভাটিটি অবস্থিত। এই মদভাটিটি থেকে মাদক নিয়ে সুরকী মহল্লাসহ আশেপাশের এলাকাতে প্রকাশ্যেই এসব মদ সেবন করে মাদক সেবীরা। মদ ভাটিটি নির্দিষ্ট সময় বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম থাকলেও তা সারাদিন এবং গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয় এবং মদ নিয়ে অন্যত্র সেবন করার সুযোগ থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকার মাদকসেবীরা এখান থেকে মদ নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সেবন করে।

এতে করে তারা ভারসাম্য হারিয়ে মাতলামী করায় এলাকার পরিবেশ চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হওয়ায় অধিকাংশ মাদকবিক্রেতা আটক ও পলাতক থাকায় শহরের চিহ্নিত এলাকাগুলোতে মাদক পাওয়া যাচ্ছেনা। এ সুযোগে মদ ভাটির মালিক দেদারছে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছে মত মদ বিক্রি অব্যাহত রাখায় মাদক বিরোধী অভিযান ভেস্তে যেতে বসেছে বলে শহরবাসীর অভিযোগ।

এ ব্যাপারে সুরকী মহল্লার লোকজন অভিযোগ করে বলেন, এখান থেকে মদ ভাটিটি সরানো না হলে সৈয়দপুরকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবেনা। মদ ভাটি সংলগ্ন এলাকাগুলো যেন মাদকসেবীদের অভয়ারন্য হয়ে দাড়িয়েছে। মাদকসেবীদের উপদ্রবে এলাকায় দিনরাত বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে। এতে এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট হওয়াসহ তরুণ ও যুবকরা মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। সে সাথে বেড়ে গেছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য