মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার গেদুরা ইউনিয়নের হাটপুকুর গ্রামে শ্মশানঘাটে লাশ সৎকারে বাধা দেওয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়েছে। এদের মধ্য থেকে আসামী আবুহুরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে । ঘটনার সংগে যুক্ত সাত জনের নামে হরিপুর থানায় মামলা দায়ের হলো আজ মঙ্গলবার।

আসামীরা হলো- আবুহুর (৩৫) পিতা মৃত মোতালেব, মাহাবুব (৪১) পিতা খালেক, মাঠকু (৫০) পিতা বশির উদ্দীন ওরফে ছাটাং, আল মামুন (৫০) পিতা মৃত খলিল, করিম (৫০) পিতা সেন্নিখুয়া, মো: ময়না (৩০) পিতা হাতিম ও রায়হান (২৮)। এদের মধ্যে মোতালেব এর ছেলে আবুহুরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরনে জানা গেছে,জেলার হরিপুর উপজেলার গেদুরা ইউনিয়নের রাজাদীঘি গ্রামের বিলখা বর্মন রোববার রাতে মারা যায়। পরিবারের লোকজন সোমবার দুপুর ২ টার সময় লাশ নিয়ে সৎকারের জন্য নিয়ে যায় হাটপুকুর শ্মশান ঘাটে।

এ সময় আবুহুর নামে এক ব্যক্তি ওই শ্মশানঘাটে লাশ সৎকারে বাঁধা দেয়। এমনকি মৃতদেহ দাফনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও মৃতদেহটি নিয়ে টাঁনা হেছড়া করে। লাশ কবরে নামানোর পরে আবার তুলতে বাধ্য করে।

এসময় লাশের লোকজন ও আবুহুরের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে মৃত বিখলা বর্মনের ছেলে রমেশ ও সমেশ আহত হয়। স্থানীয়রা হরিপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার চেস্টা করেন। সেই সময় ঘটনাস্থল থেকে মোতালেব হোসেনের ছেলে আবুহুরকে তাৎক্ষনিক গ্রেফতার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হাটপুকুর শ্মশানঘাটের সাধারণ সম্পাদক বিদেশী রায় জানান, এই শ্মশানঘাটে মোট ২.২৭ একর জমি ছিল। আমাদের বাপ-দাদারা আমাদের জন্মের পূর্ব থেকে এখানেই লাশ সৎকার করে আসছে। গত ২/৩ বছর থেকে এই ভূমিদস্যুরা আমাদের উপর হামলাসহ বিভিন রকম হুমকি দিয়ে অধিকাংশ জমি গ্রাস করে ফেলেছে। আমরা বিভিন্ন সময় থানায় অভিযোগ করা সত্বেও কোন ব্যবস্থা নেননি প্রশাসন। আমরা সকলেই হিন্দু সমাজের লোকজন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এই অত্যাচারী ও সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

এদিকে এ বিষয়টি উপজেলা নিবাহী অফিসার এম জে আরিফ বেগকে জানানো হলে তিনি পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ পাঠায় উদ্ভুদ্ধ ঘটনাটি নিয়ন্ত্রনের জন্য। মৃত্যের লোকজন পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ সৎকারের কাজ শুরু করলে আবুহুর ও তার লোকজন আবারো সৎকারে বাঁধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে মৃত ব্যক্তির দুই ছেলে রমেশ ও সমেশ গুরুতরভাবে আহত হয়।

এ সময় পুলিশ লাশ সৎকারে বাঁধাদান কারী আবুহুরকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত আবুহুর হরিপুর উপজেলার হাটপুকুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে।

হরিপুর থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস জানান, হিন্দুদের লাশ দাফনে বাঁধা দেওয়ার ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের হয়েছে । এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য