ফ্লোরিডার স্কুলে বন্দুক হামলার পর অস্ত্র আইন সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ। প্রবল জনমতের বিপরীতে নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে অস্ত্র সমর্থকরা। অধিকার রক্ষার নামে প্রাণঘাতী অস্ত্র সহজলভ্য করতে সেখানে তরুণদের একাংশকে সংগঠিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলমান। অস্ত্রের সহজলভ্যতা অক্ষুণ্ণ করতে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ ডলার খরচ করে আসছে দেশটির ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন-এনআরএ। তাদের সমর্থনে সম্প্রতি আয়োজিত হয়েছে এক কর্মসূচি। নাম দেওয়া হয়েছে ‘অধিকারের জন্য মিছিল।’ শনিবার দশটি শহরে এই মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়। আয়োজকেরা আশা করেছিলেন সবচেয়ে বেশি মানুষের ভীড় হবে লস এঞ্জেলসে। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সেখানেই অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা একশোতেও পৌঁছায়নি।

গত ফেব্রুয়ারিতে ফ্লোরিডার একটি স্কুলে বন্দুক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে জোরালো হতে শুরু করে অস্ত্র আইন সংশোধনের দাবি। দিনকে দিন জোরালো হয় জনমত। এক পর্যায়ে আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করে দিয়ে ‘বন্দুকের দোসর’ ট্রাম্প অস্ত্র আইনে কঠোরতার প্রস্তাব আনেন। এক পর্যায়ে জাতীয় বন্দুক সংস্থার মতামত উপেক্ষা করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিল পাস করেন ফ্লোরিডার আইনপ্রণেতারা। অস্ত্র কেনার সর্বনিম্ন বয়সসীমা ৩ বছর বৃদ্ধিসহ বেশকিছু নিয়ন্ত্রণের বিধান রেখে মার্কিন পার্লামেন্টের দুই কক্ষে বিলটি পাশ হয়। তবে অস্ত্র আইনকে কঠোরতা কমাতে লবিস্টদের প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

অস্ত্র সহজলভ্য করার দাবিতে শনিবার আয়োজিত কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে অধিকারের জন্য মিছিল। এই কর্মসূচির অন্যতম সংগঠক ১৯ বছর বয়সী জেনা আমিরানি। শনিবারের কর্মসূচিতে গোলাপী রংয়ের একটি স্কার্ট পরে অংশ নেন তিনি। তাতে লেখা ছিল ‘বন্দুকের অধিকার নারী অধিকার’। ‘‌বন্দুকের অধিকার মানবাধিকার, স্বাধীনতা স্বাধীন নয়’ নানা স্লোগানে শনিবার মুখর করে তোলে লস এঞ্জেলসের একটি এলাকা। অংশগ্রহণকারীদের অনেকের বয়সই ২০’র কোঠায়।

প্রায় কিশোর বয়সী এসব অস্ত্র সমর্থকদের দাবি শুধুমাত্র বয়স্ক আমেরিকানরাই অস্ত্র সমর্থন নীতির সমর্থক বিষয়টি তা নয়। আন্দোলনের যোগাযোগ প্রধান মিশেল ডিগ্রুতে বলেন, ‘আমি এখন মাত্র ১৫ বছরের, কিন্তু যখন কলেজে যাবো তখন আমি জানতে চাই আমি নিরাপদ থাকবো আর রক্ষা করতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা বিধান করে বন্দুক। প্রাকৃতিকভাবেই পুরুষেরা আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। আর একটি আগ্নেয়াস্ত্র সেক্ষেত্রে সমতা আনতে পারে।’

আন্দোলনের আরেক সংগঠন ওসজে পেনা বলেন, ‘বন্দুকের অধিকার সংখ্যালঘুর অধিকার।’ লস এঞ্জেলসে বেড়ে ওঠা পেনা বন্দুকের পক্ষে সংগীত শিল্পী টুপাক শাকুরের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন। এই শিল্পী মাত্র ২৫ বছর বয়সে বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারান।

‘মার্চ ফর আওয়ার রাইটস’ নামের এই আন্দোলনের সংগঠক হলেন জেনা আমিরানি। শিকাগো ওয়াশিংটনসহ শনিবার তার যুক্তরাষ্ট্রের দশটি শহরে মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। লস এঞ্জেলসে সবচেয়ে বেশি মানুষের ভীড় হবে বলে আশা করেছিলেন আমিরানি। তবে সেখানেই অংশগ্রহণকারীদের সর্বোচ্চ সংখ্যা একশোতেও পৌঁছায়নি। যদিও একই দিন বন্দুক আইন কঠোর করার দাবিতে আয়োজিত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ভীড়ে বন্ধ হয়ে যায় শিকাগোর একটি ব্যস্ত রাজপথ।

শনিবার লস এঞ্জেলসের ছোট জমায়েত হলেও আয়োজকেরা শঙ্কিত নন। এক কর্মী বলেন, ‘ভেবেছিলাম এখানে আমি একমাত্র অংশগ্রহণকারী হবো। তবে ভালো বিষয় হলো যে আমি তা হইনি।’

জেনা আমিরানির অভিযোগ জীবনের জন্য মিছিল কমূর্সচিতে লাখ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন ‘অধিকারের জন্য মিছিল’ কর্মসূচিতে সারা দেশজুড়ে খরচ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার আটশো ডলার।

লস এঞ্জেলসে অস্ত্র সমর্থনকারীদের এই মিছিলে যোগ দেন রক্ষণশীল সোস্যাল মিডিযা প্রভাবক উইল উইট, ড্যান্সগ্রুপ পুসিক্যাট ডলসের সাবেক সদস্য কায়া জোনস ও এনআরএ টিভির উপস্থাপক অ্যামি রবিনস। এদুজন যৌথভাবে নারীদের ইয়োগা প্যান্ট ও অন্য অ্যাথলেটিক সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান খুলেছেন।

আয়োজকদের একজন এই কর্মসূচির বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশনকে (এনআরএ) ধন্যবাদ জানান। এনআরএ টিভি ও বন্দুক সমর্থক গ্রুপটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই আয়োজনকে সামনে রেখে আয়োজকদের বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য