মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক নোয়েল সিরট্রন। প্রায় ২৫ বছর ধরে ট্রাম্পের গাড়ি চালকের দায়িত্ব পালনকারী নোয়েলের অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে অতিরিক্ত সময় কাজ করে আসছেন তিনি।

এমনকী ছুটির দিনেও তিনি ট্রাম্পের গাড়ি চালিয়েছেন। তবে কখনও তাকে ওভারটাইমের অর্থ পরিশোধ করেননি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার অভিযোগ অনুযায়ী বিগত ১২ বছরে ট্রাম্প তার বেতনও তেমন একটা বাড়াননি। দায়িত্ব নেওয়ার পর শতাধিক মামলার কবলে পড়েছেন ট্রাম্প।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বেশিরভাগ মামলায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নীতির বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। একটি মামলায় তার প্রশাসনের বিরুদ্ধেই অসাংবিধানিক কাজের অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যবসায়িক চুক্তি ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত মামলাও রয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীতে তৃতীয় লিঙ্গের প্রবেশাধিকার বন্ধ করেন ট্রাম্প। ওই সিদ্ধান্ত বিষয়েও বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের মধ্যে আছে হোয়াইট হাউস। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে মামলা করলেন তার নিজেরই ব্যক্তিগত গাড়িচালক।

সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানের এক আদালতে এই মামলা দায়ের করেন নোয়েল সিরট্রন। মামলার অভিযোগে ট্রাম্পের গাড়িচালক সিরট্রনের আইনজীবী ল্যারি হুতচার বলেছেন, কোনও অর্থ না দিয়েই তাকে জোর করে হাজার হাজার ঘণ্টা কাজ করানো হয়েছে।

আইন অনুযায়ী ৬ বছরের বেশি আগের ওভারটাইমের অর্থ নিয়ে কোনও মামলা করা যায় না। তাই দায়ের করা মামলায় সিরট্রন ট্রাম্পের কাছে ৬ বছরের ৩৩০০ ঘণ্টার ওভারটাইমের অর্থ পরিশোধের দাবি করেছেন।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত গাড়িচালক সিরট্রনের বয়স এখন ৫৯ বছর। ২৫ বছর আগে তিনি যখন ট্রাম্পের গাড়িচালকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন তিনি ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী তরুণ। মার্কিন আইন অনুযায়ী, যখন কোনও কর্মী সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বেশি কাজ করবে, তাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য অবশ্যই তার নিয়মিত বেতনের দেড়গুণ হিসাবে বেতন দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্যে দৈনিক হিসাবে ওভারটাইম হিসাব করা হয়ে থাকে।

সেই অনুযায়ী দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশ কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দেড় গুণ বেতন দিতে হবে। যদি কেউ ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করে তাহলে ৮ ঘণ্টার অতিরিক্ত সময়ের জন্য তাকে দ্বিগুণ অর্থ শোধ করতে হবে। আর ছুটির দিনে কাজ করলে দেড়গুণ অর্থ পাবেন ওই কর্মী। তবে সিরট্রন আইনজীবী দাবি করেছেন, তিনি ২৫ বছর ধরে সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেছেন। তা সত্ত্বেও তাকে কোনও অর্থ দেওয়া হয়নি। মামলায় বলা হয়, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করার পরও ২০১০ সাল থেকে তার বেতন ৭৫ হাজার ডলার নির্ধারিত করা ছিল।

ল্যারি হুতচার এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’কে বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িচালকের ওভারটাইমের অর্থ পরিশোধ না করে প্রেসিডেন্ট শ্রমিকদের অধিকার সম্পূর্ণ অবমাননা’র নজির স্থাপন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্মরত নারী ও পুরুষের মধ্যে নিজেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দাবি করেছেন। কিন্তু তার আর কোনও কিছুই বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, নোয়েল সিরট্রন দিনে, রাতে ও ছুটির দিনেও কাজ করেছেন। কিন্তু ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে তার অর্জিত অর্থ শোধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শ্রমিকদের অধিকার পুরোপুরি অবজ্ঞা করার মাধ্যমেই তার ব্যবসায়ের লজ্জাজনক রেকর্ড বোঝা যায়। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, ব্লুমাবার্গ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য