যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর এক দিন পরই তাইওয়ান প্রণালীতে প্রবেশ করেছে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীন ও তাইওয়ানকে আলাদা করা জলসীমায় শনিবার সকালে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করে। ইউএসএস মাস্টিন ও ইউএসএস বেনফোল্ড নামের জাহাজ দুটি শনিবার রাতেও আন্তর্জাতিক জলসীমা বলে পরিচিত এলাকায় অবস্থান করছিল বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা দফতর।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার আত্মবিশ্বাস তাদের রয়েছে বলেও দাবি করা হয় ওই বিবৃতিতে।

মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন চারলি ব্রাউন এএফপিকে বলেছেন, যুদ্ধজাহাজ দুটি ওই এলাকা অতিক্রম করছে। তবে এর কৌশলগত তাৎপর্য নিয়ে তিনি কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘মার্কিন নৌজাহাজগুলো দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরে যেতে তাইওয়ান প্রণালী ব্যবহার করেছ। বহু বছর ধরেই এটি করা হয়ে থাকে।’

তবে এমন এক সময়ে এই যুদ্ধজাহাজ উত্তেজনাপূর্ণ জলসীমায় প্রবেশ করলো যেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুরু হয়েছে বাণিজ্য যুদ্ধ। আবার একই সময়ে বেইজিং ও তাইপের মধ্যেও চলছে উত্তেজনা।

শুক্রবার ৩৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছেন মার্কিন প্রেসেডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করে। বেইজিং একে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘বাণিজ্যিক যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়েছে।

স্বশাসিত গণতান্ত্রিক দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করে হলেও তাদেরকে একত্রিত রাখতে চায় বেইজিং। তবে তাইওয়ান নিজেকে সার্বভৌম দেশ হিসেবে দাবি করে থাকে। একই সঙ্গে চীনের সরকারকে অবৈধ ও চীনের মূল ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করে তাইপে।

তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারীও।

দুই বছর আগে দায়িত্ব নিয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন ‘ওয়ান চায়না’র অংশ হতে না চাওয়ায় কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ায় বেইজিং। গত এপ্রিলে তাইওয়ান প্রণালীতে পাঁচ দিনের গুলিবর্ষণ সামরিক মহড়া করেছে চীন। সাই ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাইওয়ানের চার মিত্রকে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেছে। এর ফলে বর্তমানে তাইওয়ানকে সমর্থনকারী দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮টিতে। বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স ও কোম্পানিকে তাইওয়ান নাম পরিবর্তন করে তাইওয়ান, চায়না অথবা চাইনিজ তাইপে করতে বাধ্য করেছে চীন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য