মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সমর্থক একটি দলের সদস্যরা ফিলিপিন্সের একটি শহর দখলে নেওয়ার পর ১২ ঘণ্টার লড়াইয়ে সেটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

শহরজুড়ে বিস্তৃত এই যুদ্ধে অন্তত ৪ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে বুধবার ফিলিপিন্সের সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আইএসপন্থি জঙ্গিদের নিয়ে ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতার্তের হুঁশিয়ারির মধ্যেই দাতু পাগলাস শহরকে ঘিরে দুই পক্ষের এ মুখোমুখি লড়াই হল।

আইএসপন্থি অবশিষ্ট জঙ্গিদের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম এখনো চলছে, তারা দক্ষিণের বেশ কয়েকটি শহর দখল করে স্বাধীন ও আলাদা একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ছক আঁটছেন বলে দুতার্তে বারবারই বলে আসছিলেন।

বুধবার ফিলিপিন্সের একটি সেনা ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হ্যারল্ড কাবুনক এক বিবৃতিতে জানান, বাংসামোরো ইসলামিক ফ্রিডম ফাইটারস (বিআইএফএফ) গোষ্ঠীর একদল সদস্য মার্শল্যান্ডের একটি শহর দখলের চেষ্টা করলেও সৈন্যদের বাধার মুখে পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে পালিয়ে গেছে।

গোলযোগপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলের ‘সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সন্ত্রাসের বীজ বপনে বিআইএফএফের পরিকল্পনা নস্যাতে’ সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন কাবুনক।

দাতু পাগলাসের যুদ্ধ নিয়ে বিআইএফএফ জঙ্গিগোষ্ঠীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জঙ্গিদের রেখে যাওয়া স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরক ডিভাইস ও বুবি ট্র্যাপের সন্ধানে শহরটিতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী। এ কারণে যুদ্ধের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়া শহরটির হাজার হাজার বাসিন্দাকে এখনো বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

দাতু পাগলাসের যুদ্ধে জঙ্গিগোষ্ঠীটির চার সদস্য নিহত ও দুইজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাবুনক।

সেনাবাহিনীর এক সদস্য এবং স্থানীয় আধাসামরিক বাহিনীর একজনও লড়াইয়ে আহত হয়েছেন।

দাতু পাগলাস শহরটি জঙ্গিদের মার্শল্যান্ড ঘাঁটির কাছাকাছি হওয়ায় এবারের আক্রমণকে বিআইএফএফ ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে দেখতে পারে বলে ধারণা সেনা কর্মকর্তাদের।

চলতি বছরের মার্চ থেকে ফিলিপিন্সের সেনাবাহিনী তাদের জঙ্গিবিরোধী যুদ্ধ অভিযান মারাউয়ি থেকে সরিয়ে মার্শেস দ্বীপপুঞ্জের কাছে নিয়ে আসে, এলাকাটিতে আইএসপন্থি অন্য জঙ্গিরাও বেশ সক্রিয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

দেশটির সেনাবাহিনী এর আগে গত বছর পাঁচ মাসব্যাপী যুদ্ধের পর জঙ্গিদের কাছ থেকে মিন্দানাওয়ের লেকসাইড টাউন মারাউয়ির দখল ফিরে পেয়েছিল।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান ও স্থল থেকে গত চার মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানেই বিআইএফএফের ৪০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। দক্ষিণের বিভিন্ন শহরে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা রুখতে আগে থেকেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য